বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের (২৮) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (২১ জুন) দুপুরে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্র ও আইনজীবীরা জানান, দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা জিসান মিয়াকে আজ রোববার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। পরে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদের আদালতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলেও সেটি নাকচ করে দেন আদালত।
জিসান মিয়ার আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা আদালতে জিসানের জামিন আবেদন এবং রিমান্ড নামঞ্জুরের আবেদন করেছিলাম। তবে আদালত দুটি আবেদনই নাকচ করেছেন।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’ জিসান মিয়াকে কখন ডিবি হেফাজতে নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি এখন বলা যাচ্ছে না।
১৬ জুন কুমিল্লার আদালত জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন একই আদালতের বিচারক। এর আগে চার দিন পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিসান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড সুস্থ বলে মত দেওয়ার পর ১৬ জুন দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। ইতিমধ্যে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারী তাকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিও ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ওই নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অবশ্য জিসানের পরিবার দাবি করে আসছে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার স্বজনেরা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। তবে পুলিশ বলছে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
জেলা পুলিশ জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে ১২ জুন রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানকে মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।








