চট্টগ্রামে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এস আলম গ্রুপ। ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের ১১টি কারখানা। এসব কারখানায় এক সময় ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, কর্মকর্তা কাজ করতেন। তারা বর্তমানে বেকার। কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছেন, কাজ হারানো এসব শ্রমিক-কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এস আলম গ্রুপের কারখানাটি থেকে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ শিল্প গ্রুপের প্রধান কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঝুলছে ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা।
গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর্থিক ও কাঁচামাল সংকটে কারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ একমাস আগে থেকে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে। ধাপে ধাপে পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ছাঁটাই করা হয় কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল, ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম অয়েল, একটি পশুখাদ্য কারখানা এবং আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সচল আছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত আবদুল মান্নান নামে এক শ্রমিক জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
এ প্রসঙ্গে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০। অন্য কারখানায় সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল।
কর্ণফুলী থানায় ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, এস আলম গ্রুপের যেসব কারখানা কর্ণফুলীতে রয়েছে সেগুলো বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা একদিনে বন্ধ করেনি। পর্যায়ক্রমে বন্ধ করেছে।









