কারাগার থেকে বেরিয়ে অস্ত্র কিনতে ৫৭ লাখ টাকা লুট

আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার)
১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর ব্রিজ এখন অপরাধের এক কেন্দ্রবিন্দু। নাফ নদী ও দুর্গম পাহাড়ঘেরা স্থান হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, খুন ও ইয়াবা পাচারের ঘটনায় আলোচনায় রয়েছে এলাকাটি। সম্প্রতি দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের দুই কর্মীর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় আবারও সামনে আসে ১৪ নম্বর ব্রিজের নাম। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, লুটের অর্থের একটি অংশ অস্ত্র কেনার পরিকল্পনায় ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল দুর্বৃত্তদের। 

স্থানীয় লোকজন বলছেন, এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগে ব্রিজ সংলগ্ন ১০০ গজ দূরে ৩০ লাখ টাকা লুট হয়েছিল। সেই অর্থ উদ্ধার কিংবা জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে নতুন করে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই এখন বেশি অর্থ নিয়ে চলাচলে ভয় পাচ্ছেন। যা স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র রয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রকাশ্যে টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে পাশের পাহাড়ে চলে যায়। ফলে তাদের ধরতে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার ডাকাত শফির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মো. আলম ও আক্তার ডাকাতের নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে। এই ডাকাত দলে আরও ১৫-২০ জন সদস্য আছে। ডাকাত দলের সদস্য আক্তারের ভাই ইমান হোসেন, ভাগনে মো. আলম, কামাল হোসেন, আজিজুর রহমান ওরফে গুরাইয়া, মিজানুর রহমান, মো. রাসেল ওরফে আব্বুয়াসহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা লুটের ঘটনায় জড়িত। তারা হ্নীলা ইউনিয়নের লেদাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। সবশেষ লুটের ঘটনায় জড়িত আক্তার হোসেনসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চল অপরাধীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। রাতের পাশাপাশি এখন দিনের বেলাতেও সড়কটিতে চলাচল নিয়ে আতঙ্কে থাকেন পরিবহন চালক, যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ডাকাতরা পাহাড়কে ব্যবহার করে অপরাধের চক্র গড়ে তুলেছে।

৫৭ লাখ টাকা লুট 

গত ২ আগস্ট যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের দুই কর্মীর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে সাধারণ ছিনতাই নয়, বরং পরিকল্পিত অপারেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ গত বছরের ২৫ মে ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছাকাছি এলাকায় বিকাশের সেলস সুপারভাইজার মজিবর রহমানের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে ৩০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ঘটনায় মামলার এক বছর পার হয়ে গেলেও সেই টাকাও এখনও উদ্ধার করা যায়নি। সম্প্রতি ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় আক্তার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লুট হওয়া ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচ জনের মধ্যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার পাঁচ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে আয়াস নামে এক রোহিঙ্গা এবং লেদা এলাকার হোসেন আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত রবিবার বিকালে টেকনাফের বিচারিক হাকিম নাজমুল হাসানের আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়। গ্রেফতার অন্যরা হলো- মো. আক্তার হোসেন, নজরুল ইসলাম ও রূপবাহার।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফ স্টেশন থেকে বাসটি ছাড়ার পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী (গ্রেফতার রূপবাহার) বাসটিকে অনুসরণ করছিলেন। তার দেওয়া সংকেতেই পাহাড় থেকে নেমে এসে সাত-আট জনের একটি ডাকাত দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতি রোধ করে। পরে অস্ত্রধারী চার জন বাসে উঠে দুই বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাদের ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়।

ঘটনার পর ডাকাতরা পাহাড়ের দিকে চলে যায়। বাসটি থামিয়ে টাকা লুটের পুরো ঘটনায় সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। ব্যস্ত সড়কে দিনের বেলায় এভাবে টাকা লুটের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করছে পুলিশ। বাসের চালক, সহকারী ও যাত্রীদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি আছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে কিছু টাকাসহ আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।’

কেন আতঙ্কের নাম ১৪ নম্বর ব্রিজ

টেকনাফ শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পার হয়ে ১৪ নম্বর ব্রিজের অবস্থান। মূলত এই পথে ওই এলাকা পর্যন্ত ১৪টি সেতু (ব্রিজ) রয়েছে। যার কারণে এটি ১৪ নম্বর নামে পরিচিত। দমদমিয়া বিজিবির চেকপোস্ট থেকে ৩০০ ফিট দূরে এবং কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন থেকে ৫০০ মিটার দূরে এর অবস্থান। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে প্রায় তিন দশক ধরে বাস চালাচ্ছেন মোহাম্মদ মুন্না (ছদ্মনাম)। তার ভাষায়, স্থলবন্দরের কাছে ১৪ নম্বর ব্রিজ এখন চালকদের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম।

মুন্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় চলাচল করতে সব সময় ভয় কাজ করে। দিনরাত বিভিন্ন সময় সেখানে মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তিদের দেখা যায়। আমার ৩০ বছরের চালক জীবনে এই এলাকায় ৫০ বারেরও বেশি ডাকাতির ঘটনা দেখেছি এবং শুনেছি। অনেক সময় ডাকাতরা টাকা-পয়সা লুটে নেয়, আবার কিছু না পেলে যাত্রী কিংবা পথচারীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। শুধু বাসচালক নন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, সিএনজি ও অন্যান্য পরিবহনের চালকদের কাছেও ১৪ নম্বর ব্রিজ আতঙ্কের নাম। মূলত পাহাড়ঘেরা নির্জন পরিবেশ ও অপরাধীদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত, অপহরণকারী ও সশস্ত্র চক্রের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।’

তিন বছর আগে ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় ডাকাতদের হামলার শিকার হন হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক নূর কামাল। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিন জন যাত্রী নিয়ে টেকনাফের দিকে যাচ্ছিলাম। ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছে পৌঁছামাত্র দেখি সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি আমাদের ঘিরে ফেলে। তারা অস্ত্র ও কিরিচের ভয় দেখিয়ে আমার কাছে থাকা টাকা এবং যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। আমি চিৎকার করে সাহায্য চাইলে ডাকাতরা আমাকে মারধর করে। সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও ভুলতে পারিনি। এখনও ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে আতঙ্ক কাজ করে। মনে হয় আবার কোনও বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।’

টেকনাফ উপজেলার বিকাশ এজেন্টদের ডিস্ট্রিবিউটর আবদুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চালালেও এখনও লুট হওয়া ৫৭ লাখ টাকার হদিস মেলেনি। এতে আমরা চরম হতাশার মধ্যে আছি। শুধু এবারই নয়, গত বছরও ৩০ লাখ টাকা লুটের একটি ঘটনার এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। একের পর এক এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।’

কে এই ডাকাত আক্তার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের হ্নীলার পশ্চিম লেদার মকতুল হোসেনের ছেলে আক্তার হোসেন (৩৬)। তার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপ আছে। তাদের হাতে দেশি অস্ত্র ছাড়াও অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। কোনও কোনও জায়গায় আক্তার বাহিনী নামেও পরিচিত। ২০২৪ সালে শীর্ষ ডাকাত শফি গ্রুপ থেকে বের হয়ে ডাকাত আক্তার ও আলম মিলে একটি নতুন গ্রুপ করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

অস্ত্র কিনতে টাকা লুট

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৫৭ লাখ লুটের ঘটনায় গ্রেফতার শীর্ষ দুই ডাকাতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে তথ্য পেয়েছি, লুট হওয়া অর্থের একটি অংশ অস্ত্র কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত অস্ত্র কিনতে ওসব টাকা লুট করা হয়েছে। তবে আমরা সবদিক বিবেচনায় নিয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। মূলত ডাকাতদের আয়ের উৎস হচ্ছে মাদক, মানবপাচার ও ডাকাতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত আছে।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪ জন, শীর্ষে মিরপুর 
এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নিলো কারা?
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, এনসিপির সালাউদ্দীন ৩ দিনের রিমান্ডে
সর্বশেষ খবর
ইরানি বাহিনীতে শীর্ষ কমান্ডার পদে যাদের নিয়োগ দিলেন মোজতবা খামেনি
ইরানি বাহিনীতে শীর্ষ কমান্ডার পদে যাদের নিয়োগ দিলেন মোজতবা খামেনি
হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ চ্যাটে বড় পরিবর্তন, এলো ৩ নতুন ফিচার
হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ চ্যাটে বড় পরিবর্তন, এলো ৩ নতুন ফিচার
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় নিজের আইনজীবীকে কোপালেন আসামি
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় নিজের আইনজীবীকে কোপালেন আসামি
অন্য তারকারা পারেননি, বিজয় কেন পারলেন? যা বললেন বিশাল
অন্য তারকারা পারেননি, বিজয় কেন পারলেন? যা বললেন বিশাল
সর্বাধিক পঠিত
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
সমুদ্রের ৫০০০ মিটার গভীর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু চীনের
সমুদ্রের ৫০০০ মিটার গভীর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু চীনের
এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নিলো কারা?
এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নিলো কারা?
‘খুব ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’, বললেন বাফুফের বিদেশি কোচ
‘খুব ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’, বললেন বাফুফের বিদেশি কোচ
এনটিআরসিএ বাতিল হলে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে: রাবি শিবির সভাপতি 
এনটিআরসিএ বাতিল হলে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে: রাবি শিবির সভাপতি