চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় নিজের মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি করে শাহিদ হোসেন (৪৫) নামে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছে পিস্তলটি কীভাবে এলো, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকার ইমাম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। শাহিদ হাজীপাড়ার ইমাম হোসেনের বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইকবাল হোসেন এবং মা মমতাজ বেগম। তিনি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার স্বামী আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করতেন। চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলি করা হলে চাকরি ছেড়ে দেন। আমার স্বামীর কোনও একধরনের মানসিক সমস্যায় ছিলেন। তবে তার কাছে পিস্তলটি কীভাবে এলো, তা বুঝতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে এবং আমি নিজেও এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় তিনি এভাবে চলে গেলেন, কোন কারণে এমন করলেন, তা বুঝতে পারছি না। কেনইবা তিনি আত্মহত্যা করেছেন তাও বুঝতে পারছি না। আত্মহত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি বৈধ নাকি অবৈধ তাও জানি না।’
শারমিন আক্তার বলেন, ‘২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শাহিদ নিজেই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ তিনি ব্যাংকটির হাটহাজারী শাখায় ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি ছাড়ার পর থেকে বেকার ছিলেন। এর আগেও শাহিদ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখনও মানসিক চাপে ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ছিল। পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও ছিল। ব্যবসার করার কথা বলে তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা নিয়েছিলেন। তার ঋণও ছিল, আবার অনেকের কাছে টাকা পাওনাও ছিল। তবে মোট কত টাকা ঋণ ছিল, তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।’
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক বলেন, ‘সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিদ হোসেনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ড্রয়িংরুমে তিনি নিজের মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মাথায় অস্ত্র দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি এবং অস্ত্রটির উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে। শাহিদ প্রায় এক বছর আগে ব্যাংকের চাকরি ছেড়েছিলেন। এরপর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছে পিস্তলটি কীভাবে এলো এবং অস্ত্রটির বৈধতা ছিল কিনা—এসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’









