দুবাইয়ে এক বাংলাদেশির দোকান থেকে ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি ও আত্মসাতের মামলায় অর্থের ভাগ নেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুরির টাকা থেকে তিনি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রামু উপজেলার জেঠিরাস্তা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ে নিজের দোকান থেকে টাকা চুরির ঘটনায় প্রবাসী সাইফুল ইসলাম গত ১ অক্টোবর চকরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলায় দোকানের কর্মচারী নোমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন মিলি আক্তার, উম্মে কুলছুম, রমিজুর রহমান তুহিন, মীর আহমদ ও জাহানারা আরজু। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, দুবাইয়ে সাইফুল ইসলামের দোকান থেকে ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ চুরির অর্থ স্থানান্তর ও আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। এ ঘটনায় আত্মসাৎ করা টাকার একটি অংশ উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
মামলার ৩ নম্বর আসামি উম্মে কুলছুমের স্বীকারোক্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমের নাম উঠে আসে। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে উম্মে কুলছুম দাবি করেন, চুরির টাকা থেকে শাহ আলম ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার এসআই ইসমাইল বলেন, তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে শাহ আলমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের গ্রেফতারের বিষয়টি তিনি রামু থানার ওসি কাছ থেকে জেনেছেন। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।