নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে জহির ফকিরকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহত জহিরুল ইসলামের ভাগনে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন।
মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন হায়াতুজ্জামান পিয়ার, কবির হোসেন, আমজাদ হোসেন, মহসিন, জামীর, আনোয়ার হোসেন, সোহাগ মিয়া, রাজিব মিয়া, সেন্টু মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, শেখ ফরিদ, মজি মিয়া, মজিদ মিয়া, কাউসার মিয়া, ফয়সাল, এরশাদ মিয়া, মাসুম মিয়া, ইসমাইল হোসেন, তোফাজ্জল ও কামাল। তাদের সবাই আড়াইহাজার উপজেলার খালিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন তিনি।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় জহিরুল ইসলামকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন প্রতিপক্ষের কয়েকজন। তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছিল।
এজাহার অনুযায়ী, এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডে জহিরুলের ওপর হামলা চালান রিজভী ও তার লোকজন। এ ঘটনায় জহিরুল বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আগের ওই মামলার আসামিসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও জহিরুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিলেন। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে ব্যবসা করতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিজভীসহ অন্য আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে রিজভীর নেতৃত্বে এজাহারভুক্ত ২১ আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার পথরোধ করেন।
এ সময় তাদের হাতে থাকা চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহিরুলকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পাশাপাশি লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রদল নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলায় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেনের নাম না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম জহির ওরফে জহির ফকির (৪৫)। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।