রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পাঁচ দফা দাবিতে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। অবরোধের জেরে পর্যটকদের জন্য বন্ধ রয়েছে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদে তিন সদস্যের কমিটি ও স্থানীয় হেডম্যান-কারবারিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। বেলা ১১টায় এ আলোচনা শুরু হয় বলে জানা গেছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবরোধকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, মামলা প্রত্যাহার, উজোবাজারে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার খরচ বহন। এ ছাড়া উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, সাজেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার-হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এর আগে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার হেডম্যান-কারবারিদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদে আলোচনা চলছে। তবে বৈঠক থেকে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। ফলে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে।
অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটারদের উপস্থিতি চোখে না পড়লেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
রাঙামাটির এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংকট সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হলে সাজেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পর্যটন কার্যক্রম আবারও চালু করা সম্ভব হবে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে সমঝোতা এবং অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।