খুলনায় আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (০৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মহানগরীর খানজাহান আলী সড়কের পিটিআই মোড় এলাকার নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এতে দেখা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢুকে চায়নিজ কুড়াল ও হাতুড়ি দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে পাঁচ যুবক। তারা ওই সেন্টারের কাচের দরজা-জানালা, এসি, টেলিভিশন, অভ্যর্থনাকক্ষের কাউন্টারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। হামলার সময় ভেতরে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ যুবক হাতুড়ি ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে ঢোকে। এরপর তারা ভাঙচুর শুরু করে। হঠাৎ এ ঘটনায় ভেতরে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারী যুবকদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। ভাঙচুর শেষে সেখান থেকে চলে যায় তারা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিমের বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একজন আমাকে ফোন করেছিল। তখন আমি ওই নামে কাউকে চিনি না বলে জানাই। এরপর অপর প্রান্ত থেকে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথমে মুখে মাস্ক পরতে পরতে একজন যুবক চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে ঢুকছে। এরপর আরও চারজন কুড়াল নিয়ে ভেতরে ঢোকে। সঙ্গে সঙ্গে তারা ভাঙচুর চালাতে থাকে। ভাচুরের পর অপেক্ষমান রোগীদের চেয়ারে লাথি মারতে মারতে বেরিয়ে যায় তারা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা এক রোগী বলেন, ‘হামলাকারী পাঁচজনের সবার হাতে হাতুড়ি ও চায়নিজ কুড়াল ছিল। ভাঙচুর দেখে রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসেছিল।’
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নূর আজিমের দলের সদস্যরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই দুইজনকে আগেও দেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পায়।’
এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে খুলনা শহরের চতুর্থ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হলো। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি নগরের রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ২৪ অক্টোবর নগরের সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মুখোশধারী ৮ থেকে ১০ জন। তারা চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলিও ছুড়েছিল তারা।
পরদিন ২৫ অক্টোবর সোনাডাঙ্গায় সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় শাখায় গিয়ে একদল দুর্বৃত্ত কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখায়।
এরপর গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরের শামসুর রহমান সড়কের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনও মামলা করা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার আগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না পেয়ে এসব ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে না। তবে সন্ধানী ক্লিনিকের বাইরে গুলির খোসা পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছিল। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’