মানিকগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের নির্ধারিত সময় পার হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি খাদ্য অধিদফতর। জেলার সাতটি উপজেলার সাত হাজার ৮১০ মেট্রিক টন ধান কেনার টার্গেট থাকলেও চারটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫শ’ মেট্রিক টনও অতিক্রম করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। যদিও ৫ জুন ছিল এই মৌসুমে ধান সংগ্রহের শেষ সময়।
এদিকে নির্ভরযোগ্য তথ্যে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অনেক উপজেলায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকের তালিকা সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগে জমা দেওয়া হয়নি। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিলম্বিত হচ্ছে।
এদিকে বেশ কয়েকজন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এখনও ধান কাটা শেষ হয়নি বলে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা জানান, এবারই প্রথম সরাসরি কৃষকদের কৃষি কার্ডের বিপরীতে তাদের কাছ থেকে ধান কেনা এবং তাদের ব্যাংক হিসেবের মাধ্যম্যে ওই ধানের দাম পরিশোধ করা হচ্ছে। যে কারণে কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে আসতে দেরি করায় নির্ধারিত সময়ে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, এবার জেলার সাতটি উপজেলায় ৭ হাজার ৮১০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় রয়েছে ১ হাজার ৫১৬ মেট্রিক টন, সিংগাইরে ১ হাজার ৫৫১ মেট্রিক টন, শিবালয় উপজেলায় ১ হাজার ১২৬ মেট্রিক টন,ঘিওরে ১ হাজার ২৩ মেট্রিক টন, দৌলতপুরে ১ হাজার ১৮১ মেট্রিক টন, সাটুরিয়ায় ৮১০ মেট্রিক টন ও হরিরামপুর উপজেলায় ৬০৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ধান কেনার জোর প্রচেষ্টা রয়েছে। এছাড়া মাঠে এখনও কৃষকদের ধান কাটার বাকি বলে জানান তিনি।
জেলা খাদ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ধান কেনা হয়েছে মাত্র ৯০ মেট্রিক টন। অথচ এই উপজেলায় ধান কেনার কথা রয়েছে দেড় হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। এছাড়া সিংগাইর উপজেলায় দেড় হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান কেনার টার্গেট থাকলেও জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই উপজেলায় ধান বেশি কেনা হয়েছে। ধান কেনার পরিমাণ ১৮০ মেট্রিক টন। দৌলতপুরে ১ হাজার ১৮১ মেট্রিক টনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মিলেছে মাত্র ৬৯ মেট্রিক টন, ঘিওর উপজেলায় ১ হাজার ২৩ মেট্রিক টনের মধ্যে মাত্র ৫৭ টন কিনতে পেরেছেন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
এছাড়া জেলার শিবালয় উপজেলার উথলী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম মজুমদার জানান, তার উপজেলায় এ পর্যন্ত ধান কেনা হয়েছে ৫২ মেট্রিক টন। হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ মোল্লা জানান, এ পর্যন্ত মাত্র ৬ মেট্রিক টন ধান কিনতে পেরেছেন তিনি।
এদিকে সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.হানিফের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৪৫ মেট্রিক টন ধান তিনি কিনতে পেরেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্যগুদামের একাধিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগ এখনও ‘এনালগ’ রয়ে গেছে। তাদের কাছে কৃষকের কোনও ডাটাবেজ (তথ্য) নেই। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা তাদের কাছে কৃষকের তালিকা সরবরাহ না করায় ধান কেনার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্ট হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জমি ও পানি ব্যবস্থাপনা সংকট: হুমকির মুখে চিংড়ি রফতানি!
/এআর/এইচকে/আপ-এনএস/








