গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধে এপিবিএন ক্যাম্পের দুই এপিবিএন সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার টুঙ্গিপাড়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে সমাধিসৌধের এপিবিএন ক্যাম্পের এসআই বেলাল হোসেন মামলাটি করেন।
টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশ শুক্রবার রাতেই এ ঘটনার মূল হোতা মামুন হাওলাদার বাবুল (২৮), তার ভাই আকরাম হাওলাদার কোরবান (২৬), ইমরান হাওলাদার (২১) ও বাবা সমাধিসৌধের মালি মো. সোবাহান হাওলাদারকে (৫০) গ্রেফতার করেছে।
আহত এপিবিএন সদস্য মো. আবির মাহামুদ (৩৫) ও সোহান খানকে (৩৪) টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই শিরিরুল ইসলাম বলেন, সমাধিসৌধের মালি মো. সোবাহান হওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার বাবুল শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে তার স্ত্রীকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধে প্রবেশ করতে যান। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্য সমাধিসৌধে প্রবেশ করতে দেওয়ার সময় হয়নি বলে তাদের বাধা দেয়। বাবুল জোর করে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ওই এপিবিএন সদস্যকে বলে, ‘আমাকে চেনো? তোমাকে চেনাচ্ছি। চাকরি খাওয়ার ব্যবস্থা করছি।’ একপর্যায়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। দুপুরে বাবুল সমাধিসৌধ মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বাবুলের নেতৃত্বে ৮/১০ জন লোক হকিস্টিক, লোহার রড, হাতুড়ি নিয়ে সমাধিসৌধের এপিবিএন ক্যাম্পের সামনে আসে। বাবুলকে প্রবেশে বাধা দেওয়া এপিবিএন সদস্যকে না পেয়ে কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. আবির মাহামুদ ও সোহান খানের ওপর মামলা চালিয়ে মারপিট করে তারা পালিয়ে যায়। রাতে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বাবুল তার দুই ভাই ও বাবাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া থানায় এপিবিএনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।
আহত এপিবিএন সদস্য মো. আবির মাহামুদ বলেন, সকাল ৮টার আগে কাউকে সমাধিসৌধে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বাবুল সকাল ৬টার দিকে অবৈধভাবে সমাধিসৌধে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। তখন কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্য তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। রাতে বাধা দেওয়া এপিবিএন সদস্যকে না পেয়ে আমাদের ওপর হকিস্টিক, লোহার রড, হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে মারপিট করে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মাহামুদুল হক বলেন, গ্রেফতার চারজনকে ৫ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে গোপালগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাবুল আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ
/বিটি/টিএন/








