স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী হলেও আজ জীবনযুদ্ধে পরাজিত মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া শেখ (৭০)। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না জাতির এ সূর্য সন্তান। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নড়াইল খান গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন জীবনযুদ্ধে এক পরাজিত সৈনিক। ২০১৩ সালে তিনি প্রথম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তখন থেকে চিকিৎসার পেছনে অর্থ অর্থ ব্যয় করেছেন। সম্প্রতি আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এখন আর বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা ব্যয় করতে হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সেই সম্বলটুকুও তার নেই। এভাবেই বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। লাল মিয়া শেখের মুক্তি সনদ নং ৪৩৭২ ও মুক্তি বার্তা নং০১০৯০৪১১১২।
মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া শেখ বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে কাশিয়ানী থানার তৎকালীন মহেশপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লিয়াকত হোসেন মৃধা ও শুক্তাগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল কাদির জুন্নু মুন্সী সঙ্গে ফরিদপুরের তালমা লখন্ডা ব্রিজ, কাশিয়ানীর ফুকরা, সাধুহাটি, ভাটিয়াপাড়াসহ একাধিক স্থানে পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি সহায়-সম্বলহীন একজন অসহায় মানুষ। পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। সরকার যে ভাতা দেয়, সেটাই আমার একমাত্র সম্বল। এছাড়া, অন্য কোনও সাহায্য পাইনি। এ ভাতা দিয়েই কোনোভাবে ডালভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারি না। ’ চিকিৎসা করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চান লাল মিয়া শেখ ।
কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আকবার হোসেন বলেন, ‘একাত্তরেলাল মিয়া ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসাভার সরকারকে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
কাশিয়ানী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘লাল মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় একজন মানুষ। তাকে সাহায্যের জন্য ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। ’
/এপিএইচ/আপ-এইচকে/








