২০ বছর ধরে ভাঙছে টুঙ্গিপাড়ার বাঘিয়ার নদীর তীর

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১২:৪০আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১২:৪৪

বাঘিয়ার নদীতে ভাঙন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাঘিয়ার নদীর এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন থামছেই না। ২০ বছর ধরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া মসজিদ থেকে ইন্দুরকাটা খাল পর্যন্ত এ ভাঙন চলে আসছে। ভাঙনে ওই গ্রামের প্রায় ১৫০ পরিবারের বসতবাড়ি,  ফসলী জমি, গাছপালা ও গ্রামে চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি শুস্ক মৌসুমেও নদীর পাড়ের জমিতে ফাটল ধরেছে এবং জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

পাটগাতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘শীতের মধ্যেও নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ২০ বছরের নদী ভাঙনে আমার ৫০ শতাংশ জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমার পাকা বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা নদী শাসন প্রকল্প গ্রহণ করে আমাদের গ্রামের ১ কিলোমিটার এলাকা রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু ২০ বছরেও আমাদের এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

মুন্সিপাড়া গ্রামের রফিক মুন্সি বলেন, ‘প্রথম নদীপাড়ের জমিতে ফাটল দেখা দেয়। তারপর আস্তে আস্তে জমি নদীতে ভেঙে পড়ে। এভাবে আমার দুই বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। জোয়ার-ভাটার স্রোতে সারা বছরই এ নদীতে ধীরগতির ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।’ বাঘিয়ার নদীতে ভাঙন

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ শৈলদহ এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন নদী থেকে কিছুটা দূরে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছি। গত ২০ বছরের নদী ভাঙনে আমাদের এলাকার অন্তত ৬০ একর জমি, অসংখ্য বাড়িঘর ও  গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গ্রামের সরকারি রাস্তা নদীতে চলে গেছে। এ কারণে আমাদের গ্রামসহ পূর্বপাটগাতী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখন বসতবাড়ি, জমি, গাছপালা, মসজিদ, ব্রিজ ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।’

পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বর হাবিব মুন্সি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঘিয়ার নদী শাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে এর আগে বেশ কয়েকবার আমাদের জানিয়েছে। সার্ভেয়াররা এসে সার্ভে করেছে। কিন্তু কাজ শুরু করেনি। এ কারণে গ্রামের মানুষের জমি জমা, বসতবাড়ি, গাছপালা নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আমি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।’

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মঈনউদ্দীন বলেন, ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্ভেসহ সব ধরনের আগাম কাজ সম্পন্ন  হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে নদী শাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

/এফএস/  

আরও পড়ুন- 


বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচন: জিরো টলারেন্সের নির্দেশ ইসি’র

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম