নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয়পক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার ( ১ জুন) সকালে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের আলীপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় একটি বাজারে ও আশপাশের ৮টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
করিমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।
আহতরা হলেন আলাল উদ্দিন, জুয়েল মিয়া, মনসুর মিয়া, নান্নু মিয়া, রহিম বাদশা, শহিদুল্লাহ মিয়া, করিম মিয়া, গুলজার হোসেন ও ইমান আলীসহ ২০ জন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আলীপুরা এলাকার দক্ষিণপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন মেম্বার ও উল্টরপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় আলীপুরা নতুন বাজারে শাহজাহান পক্ষের কালাম, দ্বীন ইসলাম, খলিলের সঙ্গে কামাল মেম্বার পক্ষের গুলজার ও করিমের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি আজ শুক্রবার সকালে বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে বলে তাৎক্ষণিক দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয় উপস্থিত লোকজন। কিন্তু বৈঠকের আগেই কামাল পক্ষের কয়েকজন শাহজাহান পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহজাহান পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে কামাল পক্ষের লোকজনের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর ও স্থানীয় আলীপুরা নতুন বাজার ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে টেঁটা সংঘর্ষ লেগে যায়। এতে কামাল পক্ষের ১০ জনসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন।
দক্ষিণপাড়া এলাকার বিউটি বেগম বলেন, আমার বাজারের দোকানের প্রায় ২/৩ লাখ টাকার ইলেকট্রিকের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া শাজাহান পক্ষের খলিল, কালাম, দ্বীন ইসলামসহ ৪০/৫০ জন লোক আমাদের লোকজনকে টেঁটা দিয়ে মেরে বাড়িঘর ভাঙচুর করে সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
শাহজাহান ও কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় শাহজাহান ও কামাল মেম্বার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কথাকাটাকাটির জের ধরেই সংঘর্ষটি হয়েছে। শাহজাহান পক্ষের লোকজন কামাল পক্ষের লোকজনের প্রায় ৮/১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সংঘর্ষে কামাল পক্ষের লোকজনই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও প্রথমে কামাল পক্ষের লোকজনই ওই পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৪/১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।’







