মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়রা ও চালা ইউনিয়নের মাঝামাঝি যাত্রাপুর এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে আরসিসি পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পাকা সেতুর দাবি করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে করে ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া, চালা, বলড়া, ভাড়ারিয়া এই চার ইউনিয়নবাসীর মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা না হলেও গত পাঁচ বছরে এখানে দুই শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এখানে একটি পাকা সেতু অত্যন্ত প্রয়োজন। সেতুটি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি হরিরামপুর উপজেলার যাত্রাপুর, খলিলপুর, পশ্চিম খলিলপুর, আগরাইল, লাউতা, সট্টি, খাবাশপুর, দরিকান্দি, কাণ্ঠাপাড়া, বয়ড়া, দিয়াবাড়িসহ ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যেরও উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়া সহজ হয়ে উঠবে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র। বিশেষ করে ৪৭ বছরের পুরনো যাত্রাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীর চলাচলের সমস্যা দূর হবে।
পশ্চিম খলিলপুর গ্রামের সোহরাব উদ্দিন জানান, তিনি সপ্তাহে দুইদিন সাঁকো পার হয়ে কাণ্ঠাপাড়া,বয়ড়া হাট করেন। রাতের বেলায় সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়।
যাত্রাপুরের আলু ব্যবসায়ী রহিমুদ্দিন বলেন, বর্ষার সময় রাতে ঘাটে নৌকা পেতে কষ্ট হয়। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পার হন। যাত্রাপুর, খলিলপুর, কাণ্ঠাপাড়া গ্রামের মানুষই বেশি।
পশ্চিম খলিলপুর গ্রামের হান্নান মাতব্বর বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে নদীর দুই পারের হাজার হাজার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি হবে। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। এখানে সেতু হলে এ অঞ্চলের বড় বড় হাটগুলোর পণ্য নিয়ে সহজেই অন্যত্র যেতে পারবে।
হরিরামপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসার সবুজ বলেন, এ সমস্যা একদিনের নয়, আমরা ছোট বেলা থেকেই এরকম দেখে আসছি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইছামতি নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো দুই পারের ১৫ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন। পূর্বপুরুষ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত এলাবাসী কতবার যে এ সাঁকোর পুরাতন নড়বড়ে বাঁশ বদলিয়ে নতুন বাঁশ লাগিয়েছে তার হিসাব কারও জানা নেই। বহুবার জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসনের কাছে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসলেও শত বছরেও সেখানে ব্রিজ নির্মাণ হয়নি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো আর মালামাল পারের জন্য নৌকাই তাদের ভরসা।
এলাকার খেজমত আলী নামের এক কৃষক জানান, বর্ষাকালে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে হরিরামপুর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইছামতি নদীর ওপর ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি পিলারের ওপর সাঁকো তৈরি করা হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সাঁকোর কাঠ নষ্ট হয়ে যায়। চলাচলের সুবিধার্থে স্বানীয়রা বাঁশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে।
চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিশ্বাস বলেন, ‘এই এলাকায় একটি পাকা ব্রিজ প্রয়োজন। কিন্তু টাকা না থাকায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিল হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি তাকে একদিন নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ব্রিজ করে দেবেন। কিন্তু এরপর আর কোনও খবর নেই।’
এছাড়া বাঁশের সাঁকোটি চালা ও বয়ড়া দুই ইউনিয়ের মাঝামাঝি হওয়ায় বয়ড়া চেয়ারম্যানের তেমন নজর নেই বলে সামছুল আলম জানান।
বয়ড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার বলেন, ‘পাকা ব্রিজ করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। হরিরামপুর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে পরিকল্পনা জমা দেওয়া আছে। হয়তো আগামী অর্থবছরে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।’
এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাসার সবুজের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘এই ব্রিজটি জন গুরুত্বপূর্ণ। ত্রাণ ও পুনঃবার্সন অধিদফতর থেকে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল কিন্তু ব্রিজের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তারা ব্রিজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।’ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আগামীতে একটি প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অর্থের অভাবে প্রকল্প নেওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ব্রিজ এমপি সাহেবই করতে পারেন।’ বিষয়টি নিয়ে এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।







