গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখন্ড এলাকার এক কৃষককে ধরে নিয়ে ২০ পিস ইয়াবা দিয়ে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বলে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ওই কৃষকের নামে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কৃষকের নাম সোহেল রানা (৩৫)। তিনি কেওয়া পশ্চিমখন্ড এলাকার ওমেদ আলীর (মৃত) ছেলে। সোহেল ট্রাক্টর দিয়ে অন্যের জমি চাষ ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানগাড়ি দিয়ে কৃষিপণ্য ভাড়ায় আনা নেওয়া করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোহেল রানার মা মহিরুন্নেছা (৮০) বলেন, ‘সোহেল মঙ্গলবার সারাদিন জমিতে হালচাষ করেন। বিকালে ট্রাক্টরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেটি সারানোর জন্য স্থানীয় বাজার থেকে কারিগর এনে তা মেরামত করেন। পরে কারিগরকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে নিজ বাড়ির প্রবেশ মুখ থেকে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। মোটরসাইকেলটি অবৈধ দাবি করে তাকে পুলিশের ব্যাক্তিগত প্রাইভেটকারে তুলে নেয়।’
কৃষকের চাচাতো ভাই সবুজ মিয়া বলেন, ‘গাড়িতে তুলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার (সবুজের) কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচাতে ১০ হাজার টাকা পুলিশের হাতে আমরা তুলে দিই। পুলিশ আরও ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে নেয়ে যেতে বলে।’
সবুজ মিয়া আরও বলেন,‘ উড়াল সেতুর নিচে গিয়ে টাকা যোগাড় করতে না পারার বিষয়ে জানালে পুলিশ আমাকেও হুমকি দেয়। ওই ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে পুলিশ চলে যায়। বুধবার (৮ আগস্ট) সকালে থানায় গেলে তারা জানতে পারেন ২০ পিছ ইয়াবা দিয়ে সোহেল রানার নামে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।’
এদিকে, কেওয়া পশ্চিমখন্ড এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সোহেল রানার মাদকের সঙ্গে কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। সে মাদক বেসনকারী বা বিক্রেতা নয় বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
ওই এলাকার আলী হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং কামাল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন অক্তার বলেন, ‘ইয়াবা কেন? সোহেলের ব্যাপারে কখনও কোনও মাদক সেবনের কথা শুনিনি।’
আমির উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী আফির উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘এই ছেলে ট্রাক্টর দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাকে কোনওদিন সিগারেট পর্যন্ত খেতে দেখিনি।’
রমিজ উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৬০) বলেন, ‘সে ট্রাক্টর ছাড়াও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানগাড়ি দিয়ে কৃষিপণ্য আনা নেওয়া করে সংসার চালায়। সে একজন সাধারণ কৃষক।’
আমিনুল ইসলামের স্ত্রী লাইলী বগেম বলেন, ‘গত প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধে তার স্ত্রী চলে গেছেন। শান্তা (৮), সোহানা (৪) ও বর্ষা (২) নামে তার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেয়েগুলো ওই রাত থেকে এখনও তার বাবার জন্য কান্না করছে।’
সোহেলের কন্যা শান্তা তার বাবার কথা বলতে গিয়ে কান্না শুরু করে। তার বাবাকে কেন পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে? এ কথার পর আর কিছু বলতে পারেনি।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান জানান, সোহেল রানাকে ২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। টাকা পয়সার অভিযোগগুলো সত্য নয়।’







