মাদারীপুরের শিবচরে উৎসব হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিবচরের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম লিটন চৌধুরী।
তিনি বলেন,‘অন্যায়কারী যে-ই হোক তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। শিবচরে প্রশাসনের চোখের সামনে বাজারের ভেতরে একাত্তর সড়কের মত জায়গায়, ইউএনও অফিসের ও ওসি সাহেবের চোখের সামনে বলা যায় এবং যেখানে নেতাদের অফিস আছে, সেখানে যদি এই ধরণের ধর্ষণ বা হত্যার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে, তাহলে গ্রামগঞ্জে কি ঘটবে?’ রবিবার বিকেলে দেলোয়ার হোসেন বেপারির হাটে একটি মসজিদ উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ আরও বলেন, ২৮-৩০ বছর কষ্ট করে শিবচর যে সুনাম অর্জন করেছে, চারিদিকে শিবচরের যে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে, দুই-একজনের কারণে তা নষ্ট হয়ে যাবে, আর আমরা বসে বসে চিনাবাদাম খাবো তা হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমার জিরো টলারেন্স। ধর্ষণের সঙ্গে যে নেতাই জড়িত হোক, তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।’
এসময় চিফ হুইপের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিবচরের পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খানসহ অন্য নেতারা। যে হোটেল থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানকার কয়েকজন মালিকের মধ্যে মূল মালিক আওলাদ হোসেন খান।
এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উৎসব হোটেলের দুই কর্মী খায়রুল ও রোনাল্ড পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, উৎসব হোটেলের মালিক শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খানসহ ১৬ জন। মালিক পক্ষের লোকজন জানতেন তাদের হোটেলে নারী ব্যবসা হয়। কিন্তু এ থেকে অতিরিক্ত আয় হওয়ায় তারা এসব অসামাজিক কাজের সুযোগ দিয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য গত রবিবার (৫ মে) শিবচরে উৎসব হোটেল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইন্নি আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ওই স্কুলছাত্রীর মায়ের দাবি, প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ইন্নিকে অপহরণ করে রুবেল খান নামে এক তরুণ। পরে তাকে নিয়ে ওই আসাসিক হোটেল নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রুবেলসহ তিনজন। ধর্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, ওই স্কুলছাত্রীকে গর্ভনিরোধক পিল ও যৌন উত্তেজক সেনেগ্রা ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে রুবেল খান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রুবেল পালিয়ে যায়। পরে হোটেল কক্ষ থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হোটেলের কর্মী খায়রুজ্জামান ও রোনাল্ডসহ মূল অভিযুক্ত রুবেল খানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে রুবেল।
এদিকে ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেলটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।








