পদ্মা সেতুর উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জিং কোনও কাজ আর বাকি নেই বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সব কাজ শিডিউল অনুযায়ী চলছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে মূল সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩০ জুন।’
দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮৫ দশমিক ৫০ ভাগ। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৬৬ ভাগ ও সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৫০ ভাগ। অন্যদিকে সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার কাজের অগ্রগতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।’
এদিকে, মূল সেতুর আর্থিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৬০ ভাগ। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৭৫১ দশমিক ১৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, নদীশাসন কাজের আর্থিক অগ্রগতি ৫২ দশমিক ৪৭ ভাগ। নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৭০৭ দশমিক ৮১ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৯ দশমিক শূন্য ৪ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার শতভাগ কাজের জন্য মোট ১ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশের জন্য ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা এবং প্যানেল অব এক্সপার্ট, পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট ও আয়কর, যানবাহন, বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য খাতে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৫১০ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৩১৭ দশমিক ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মঙ্গলবার বসছে ২০তম স্প্যান
এদিকে পদ্মা সেতুর ২০তম স্প্যান, ৩-এফ মাওয়া প্রান্তে ১৮-১৯ নম্বর পিয়ারে বসতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর)। এই স্প্যান বসলে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে সেতুর মোট তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হবে এবং ২০১৯ সালে সেতুর মোট ১৩টি স্প্যান বসানো সম্পূর্ণ হবে।
এ তথ্য জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, ‘এখন প্রতিমাসে তিনটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে। এ শিডিউল মেনে স্প্যান বসাতে পারলে আগামী বছরের জুলাই নাগাদ ৪১টি স্প্যান বসানো শেষ হবে। পদ্মা সেতুর মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে চীন থেকে মাওয়ায় এসেছে ৩৩টি স্প্যান। এর মধ্যে ১৯টি স্প্যান স্থায়ীভাবে বসে গেছে। আরও দুটি স্প্যান চীন থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছে। ৬টি স্প্যান তৈরির কাজ চীনে চলমান আছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সব স্প্যান দেশে চলে আসবে।’
সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘২০তম স্প্যান হিসেবে ‘৩-এফ’ সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১৮ ও ১৯ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানোর কথা। আবহাওয়া ও কারিগরি কোনও সমস্যা দেখা না দিলে ৩১ ডিসেম্বরই স্প্যান বসবে। আর ২০তম স্প্যান বসানোর পর সেতুর মোট তিন কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে।’
হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজন। ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেনে করে প্রতিটি স্প্যান মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বহন করে নিয়ে পিয়ারে বসানো হয়।’
সহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি পিয়ারের মধ্যে বর্তমানে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৬টির। বাকি ৬টি পিয়ারের কাজ আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। সেতুতে ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ৪৩৯টি বসানো হয়েছে। ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১৫০টি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে।’







