আজ ২৬ মার্চ । বাংলাদেশের ৫০তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। প্রতিবছরের এই দিনে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে লাখো মানুষের ঢল নামে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌধ এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা থেকে বিরত রয়েছে দেশ ও জাতি। প্রাণঘাতি করোনার বিস্তার রোধে স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা ছাড়াও দিবসটির সব অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে সরকার।
সরেজমিনে স্মৃতিসৌধ এলাকায় গিয়ে কাউকে দেখা যায়নি। তবে কয়েকজন ব্যক্তিকে পরিবহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
কথা হয় স্মৃতিসৌধের দায়িত্বে থাকা নিরপত্তাকর্মী মোজ্জাম্মেল ও এক আনসার সদস্যের সঙ্গে। তারা সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধের মূল ফটকে নিরপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। স্মৃতিসৌধ বন্ধ থাকলেও এমনি অনান্য সময়েও অনেকে দর্শনার্থী এসে তাদের কাছে ভেতরে যেতে অনুরোধ জানায়। অথচ আজকের এই দিনে কাউকে মূল ফটকের সামনেও আসতে দেখেননি তারা। শুধু কয়েকজন সংবাদকর্মীর দেখা মিলেছে। সবারই মধ্যেই করোনা আতঙ্ক বিরাজ করায় আজ স্মৃতিসৌধ এলাকা শূন্য হয়ে আছে বলে জানান তারা।
সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, করোনা প্রতিরোধের জন্য সব ধরনের জনসমাগম নিষেধ করে দিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্মৃতিসৌধ এলাকাও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, ২৬ মার্চের এই দিনে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আজকের এই কর্মসূচি করা হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য অনেক দুঃখজনক একটি সময়।
অন্যদিকে বুধবার সকাল থেকেই সাভারের মহাসড়কগুলোতে শুধু পণ্য পরিবহন ও হাতে গোনা কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া তেমন কোনও যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ক সকাল থেকেই যানশূন্য দেখা গেছে। জনসমাগম প্রতিরোধে মহাসড়কগুলোতে রয়েছে পুলিশের বাড়তি টহল।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আশুলিয়া মহাসড়কগুলোতে সবধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বিনাপ্রয়োজনে জনাসধারণ বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে যেন চলাফেরা না করে সেজন্য পুলিশের সদস্যরা টহল দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।








