গোপালগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নিত্যানন্দ বল্লবের (৬৭) মুখাগ্নি (চিতায় আগুন) দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান খান। রবিবার (২৮ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ডোম এর সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শ্নশানে তিনি লাশের মুখাগ্নী ও সৎকারের যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। পরিবারের সদস্যরা লাশ না নেওয়া এবং সৎকারে না আসায় শেষ পর্যন্ত ইউএনও এই দায়িত্ব নেন।
করোনা আক্রান্ত হয়ে ওই বৃদ্ধ শনিবার রাতে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের নারায়নখানা গ্রামের বাসিন্দা।
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অসিত কুমার মল্লিক জানান, গত ৬ জুন করোনায় আক্রান্ত নিত্যানন্দ বল্লবকে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতাল থেকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। পরিবারের লোকজনের অনিহার কারণে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়নি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান খান বলেন, ‘রাতেই প্রশাসন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মৃতের সৎকারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু শ্নশান কর্তৃপক্ষের বাধা ও মৃতের লাশ নেওয়ার জন্য কোনও ভ্যানের ব্যবস্থা করতে না পারায় সকালে সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সকালেও পরিবারের সদস্যরা কেউ লাশ সৎকারের জন্য আসেননি। এমন কী মোবাইল ফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পরিবারের কোনও সদস্য না আসায় দুপুরে স্থানীয় কয়েক জন ডোমের সহযোগিতায় সৎকার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনায় মৃতের লাশ কবরস্থান বা শ্নশানে নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই এসব মৃত দেহ দাফন বা সৎকারের জন্য একটি ভ্যানের ব্যবস্থা থাকা উচিত। লাশের সৎকারের সময় ডা. এস এম সাকিবুর রহমান ও ডা. জাহিদ উপস্থিত ছিলেন।’
প্রসঙ্গত, জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬০৯ জন।







