মাদারীপুরে ৫০টির বেশি মাদক মামলার আসামি, মাদক সম্রাট খ্যাত আনিস হাওলাদার একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। ২০১০ সালে চরমুগরিয়া এলাকায় ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক মামলায় সোমবার (১৭ আগস্ট) তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করে মাদারীপুরের জেলা ও দায়রা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নয়াচর গ্রামের আনিস হাওলাদার ও তার স্ত্রী বিলকিস বেগম দুই যুগ ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এই সময়ে স্ত্রী বিলকিস বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ও নিজে এককভাবে প্রায় ৫০টি মাদক মামলার আসামি হয় আনিস। বিভিন্ন সময় তারা মামলায় জামিন নিয়ে পলাতক অবস্থায় ছিলেন।
২০১০ সালের ২১ মে চরমুগরিয়া খাদ্যগুদাম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালান সদর থানার এসআই সুলতান মাহমুদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নয়াচর গ্রামের মৌজ আলী হাওলাদারের ছেলে আনিস হাওলাদার ও তার সহযোগী যশোরের হানিফ মোড়লের ছেলে এমদাদুল মোড়লকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা রায়ে অপর আসামি এমদাদুল ইসলামের কোনও দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন। আনিস হাওলাদার দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ প্রদানের সময় আনিস হাওলাদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মাদারীপুর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, স্ত্রী বিলকিস বেগমসহ ও এককভাবে আনিস হাওলাদারের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও প্রায় ৫০টি মাদক মামলা রয়েছে। মাদক মামলায় যাবজ্জীবনের এই রায় মাদক বিক্রেতাদের জন্যে সতর্ক সংকেত হয়ে থাকবে। অন্য মাদক মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।








