দেশব্যাপী আরোপিত কঠোর লকডাউনের প্রথমদিনে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে দেখে মেলেনি কোনও যাত্রীর। ফলে অবাধে পারাপার হচ্ছে পণ্যবাহী যানগুলো। এতে গেলো কয়েকদিনের তুলনায় স্বস্তি ফিরেছে এ নৌপথে। গত কয়েকদিন এ নৌপথে ঘর ও রাজধানীমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। কঠোর লকডাউনের প্রথমদিনেই পাল্টে গেলো সেই চিত্র।
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী যেসব যানবাহন আসছে সেগুলো সরাসরি ফেরিতে পার হচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি ছিলো এ নৌপথে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে চলাচল করছে ১৩টি ফেরি। ফেরিগুলোতে যাত্রী নেই। শুধু গাড়ি পার করা হচ্ছে। পুরো ঘাট এলাকার চিত্র গেলো কয়েকদিনের তুলনায় আজ অনেক ভালো। ঘাটে প্রকৃত লকডাউন চলছে। জরুরি পরিষেবার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনও যান বা যাত্রী দেখা যায়নি।
যেসব ফেরি মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসছে সেসবেও একই দৃশ্য। শুধু পণ্যবাহী যান ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. জাকির হোসেন জানান, আজ বেলা ১টা পর্যন্ত শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আছে পারাপারের অপেক্ষায়। এসব ধারাবাহিকভাবে ফেরিতে পার করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত যানবাহন আসছে না শিমুলিয়া ঘাট এলাকায়। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি যেসব আসছে, এসব সরাসরি ফেরিতে যেতে পারছে।
তিনি আরও জানান, ঘাটের আশপাশ পুলিশের চেকপোস্ট আছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে লাগাম টানতে সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।









