নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। আগুন লাগা ভবনের ছাদে আটকা পড়েছেন শতাধিক শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কর্নগোপ এলাকার ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। তবে এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
মৃত দুই শ্রমিক হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডুবা এলাকার যতীন সরকারের স্ত্রী স্বপ্না রানী (৪৪) ও কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার উত্তরকান্দা কুকিমাদল গ্রামের হারুনের স্ত্রী মিনা আক্তার (৪৩)। তারা উভয়ে কারখানার সুয়িং সেকশনের শ্রমিক বলে নিশ্চিত করেছেন সেখানকার অপারেটর আজিজ মিয়া। গুরুতর আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাসেম ফুডস লিমিটেডের সেজান জুস কারখানার ছয় তলা ভবনের নিচ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনের বিভিন্ন তলায় কাজ করা শ্রমিকরা আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ভবনের নিচ তলার ফ্লোরে কার্টন ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হয়। সেখান থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে আগুন ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন। এ সময় ছাদ থেকে লাফ দিয়ে স্বপ্না রানী ও মিনা আক্তারের মৃত্যু হয়।
রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুর রহমান রনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আহত শতাধিক শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুই জনকে মৃত পেয়েছি আমরা। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপ্না রানীর মেয়ে বিশাখা রানী বলেন, অনেক শ্রমিক কারখানার ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন। তাদের বের করা না হলে মারা যাবে।
হাসেম ফুড লিমিটেডের অ্যাডমিন ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ভবনের পাঁচ ফ্লোরে চারশ শ্রমিক বিকালে ওভারটাইম করছিলেন। ছয় তলায় আমাদের স্টোর। সেখানে কয়েক কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। সব মালামাল পুড়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ডেমরা, কাঞ্চন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের মোট ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অগ্নিদগ্ধদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এটি ফুড বেভারেজ কারখানা। এখানে জুসসহ কোমলপানীয় তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাদে আটকেপড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।








