যৌথ অভিযানে গ্রেফতার টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে নয় জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও তিন-চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন– টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মৃত আব্দুল মোমেনের ছেলে মুন্সী তারেক পটন (৪৯), মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে পারভেজ খান রনি (৩৬), সোহেল ওরফে বাবু (২৭), দুলাল সূত্রধরের ছেলে অন্তর সূত্রধর (২৭), কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা (৪৫), মুন্সী তারেক পটনের স্ত্রী লিনা (৪০), শামীম আল মামুনের ছেলে রাফসান (২৮), মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে আয়নাল মিয়া (৪৫)।
আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতের বিচারক শামসুল আলম প্রদিবেদন জমা দিতে বলেছেন।’
মামলা সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর মোর্শেদের বাসার সামনে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দ আমেনা পিংকিকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে ১৭নং ওয়ার্ডের কাজী মোস্তফার মাধ্যমে মোর্শেদ ও পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জোর করে কাজী মোস্তফার বালাম বই থেকে মোর্শেদ কাবিননামা ছিঁড়ে ফেলে দেয়। তাদের সংসারে ছয় বছরের এক মেয়েও রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মুন্সী তারেক পটনের বাসায় দাওয়াতের কথা বলে পিংকিকে নিয়ে যায় মোর্শেদ। সেখানেই অভিযুক্ত আসামিরা পিংকিকে হত্যা করে লাশ গুম করে। এতদিন কাউন্সিলর মোর্শেদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পায়নি নিহতের পরিবার।
মামলার বাদী সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আমার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদ জোর করে অপরহরণ করে বিয়ে করে। এরপর মোর্শেদসহ তার বাহিনীর লোকজন তাকে হত্যা করে। মোর্শেদসহ তার ক্যাডার বাহিনীর ফাঁসি দাবি করছি।’
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গ্রেফতার মোর্শেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সোমবার (২৩ আগস্ট) তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। রিমান্ডে মোর্শেদ জিজ্ঞাসাবাদে তার ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়।









