মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চর কেওয়ার ইউনিয়নের নলবুনিয়াকান্দি গ্রামে সাত্তার সরকার (৪৫) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় নলবুনিয়াকান্দির মোল্লাবাড়িঘাট এলাকার একটি গাছ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি নলবুনিয়াকান্দি গ্রামের সুরুজ সরকারের ছেলে।
স্বজনদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন সাত্তার সরকারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে।
সাত্তারের বাবা সুরুজ সরকারের বলেন, সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ মিটার দূরে একটি গাছে ঝুলতে দেখা যায়। তার গলায় প্লাস্টিকের দড়ি পেঁচানো ছিল। পা ছিল মাটিতে। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তার দাবি, আগামী ২৮ নভেম্বর চর কেওয়ার ইউনিয়নে নির্বাচন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টিউবওয়েল প্রতীকের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. ইমরান কবির ইমানের সমর্থক ছিলেন সাত্তার। ইমরানের পক্ষে কাজ করায় প্রতিদ্বন্দ্বী আপেল প্রতীকের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. বজলুর রহমানের সমর্থকরা তাকে রজতরেখা নদীর পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। কয়েকদিন আগেও বজলুরের কয়েকজন সমর্থক সাত্তারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তারাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় মৃত অবস্থায় সাত্তারকে হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, গলায় ফাঁসের কারণে মৃত্যু হয়েছে। শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।
এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টিউবওয়েল প্রতীকের মেম্বার পদপ্রার্থী ও বর্তমান মেম্বার ইমরান কবির জানান, সাত্তার সরকার আমার সমর্থক ছিলেন। কিছুদিন আগেও তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। সাত্তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বজলুর রহমান জানান, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী ইমরান অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় আমার সমর্থকরা জড়িত নন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুমন দেব জানান, পুলিশ তদন্ত করে বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবার দাবি করেছে, কে বা কারা হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। তদন্ত শেষে হত্যার কারণ বলা যাবে।









