গাজীপুরের পূবাইলে অভিযান চালিয়ে ৯ ডাকাতকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাড়ে ১৯ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, রাধা কৃষ্ণ ও গোপালের পিতলের দুইটি মূর্তি, দুইটি বিদেশি পারফিউম, একটি উচ্চ শক্তির ক্যামেরা, হেয়ার ড্রায়ার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন- গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার রিনা আক্তার (৫০), কিশোরগঞ্জের রবি দাস (৪৫) ও চন্দন চন্দ্র দাস (৩৬), নোয়াখালীর জসিম উদ্দিন (৪৫), মাদারীপুরের ফারুক হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার (২৫), শিল্পি আক্তার (৩০), গাজীপুরের হাবিবুর (৪৮) এবং সুনামগঞ্জের ইমন উদ্দিন (২৯)।
সোমবার (১৪ মার্চ) তাদেরকে আদালতে তোলা হলে রবি দাস ও ফারুক হোসেনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতাররা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে ছদ্মবেশে কাজের লোকের চাকরি নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক ডাকাতি করতো। রবিদাস ও ফারুক ঢাকা জেলখানায় পূর্বে একাধিক মামলায় বন্দি ছিল। সেখানে বসেই তারা পরিকল্পনা করে, জেল থেকে বের হয়ে ডাকাত দল গঠন করে নতুন কৌশলে ডাকাতি করবে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুই জন জানায়, তারা জেল খেটে বের হয়েই নতুন আন্তঃজেলা ডাকাত দল গঠন করে। সোমবার দুপুরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক রবিদাস ও ফারুকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ তালোটিয়ার হারাধন চন্দ্র শীলের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের ছিকোলিয়া এলাকায় বাদল দাসের বাড়ি এবং এর দুই দিন পর তালোটিয়ার মজিবুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা বাড়ির লোকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। এসব ডাকাতির ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগীরা মামলা মামলা করে। মামলা হওয়ার পর রহস্য উন্মোচনে পুলিশ মাঠে নামে। রবিবার (১৩ মার্চ) গাজীপুরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ লুটে নেওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।’









