ঈদে যানজট কমাতে এক সড়কেই থাকবে ৪০০ পুলিশ 

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ 
১৩ এপ্রিল ২০২২, ২২:০৮আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ২২:০৮

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। যা এই ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালকরা। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে চলছে সড়ক প্রশস্তের কাজ। ঈদের আগে কাজ শেষ না হলে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে সিরাজগঞ্জের এ মহাসড়ক। তবে ঈদের আগেই সড়ক পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঈদে মহাসড়কে যানজট কমাতে ৪০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এ কারণে মহাসড়কের অনেক জায়গায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও রাস্তা ঘুরিয়ে বিপরীত দিকে খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায়ই বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়ক থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ অংশের হাটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় ধীরগতি, আবার কখনও এই অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। 

এদিকে নলকায় নতুন সেতু কাজ শেষ না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে মহাসড়কের যানজটের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা। তবে ঈদের আগেই সেতুর এক লেন খুলে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটের এসআই এন্টারপ্রাইজের বাসচালক হাফিজুর রহমান বাবু বলেন, বর্তমানে মহাসড়কের যে অবস্থা, যদি নলকা সেতু খুলে না দেওয়া হয় এবং মহাসড়কের কাজ শেষ না হয় তাহলে এই রোজার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।

 ঢাকা থেকে নওগাঁগামী বাসচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের নলকা সেতু নিয়ে আমরা অনেক চিন্তিত থাকি। মহাসড়কে দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় ঈদের আগেই থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সামনে ঈদ, এ সময় যদি নলকা সেতু এবং মহাসড়কের কাজ শেষ না হয় তাহলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে বলে শঙ্কা করছি।

মীর আখতার হোসাইন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. এখলাছ উদ্দিন বলেন, ‘আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কের যানজট ও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা ঈদের ছুটির আগেই নলকার নতুন সেতুর এক লেন খুলে দেবো। মহাসড়কের খানাখন্দগুলো সংস্কারেরও কাজ চলছে। আশা করি ঈদে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না।’

সওজের সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঈদের আগেই দ্রুত নলকা সেতুর কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’ সড়কের অসমতল জায়গাগুলোতে ইট, পাথর ও বিটুমিন দিয়ে সমতল করে মহাসড়কের সব লেন খুলে দেওয়া চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

 সিরাজগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. সালেকুজ্জামান খান সালেক বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানজট মুক্ত রাখতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। যানজট নিরসনে ২০ রমজানের পর থেকে মহাসড়কে কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ নলকা সেতুর পাশে নির্মিত নতুন সেতুটি খুলে দেওয়ার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। আশা করছি ঈদের আগেই নতুন সেতু দিয়ে যানবহন চলাচল করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু পশ্চিমপাড় থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দে রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত মেরামত করার জন্য আমরা সওজ বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছি। তারা কাজও শুরু করেছে। 

লুৎফর রহমান আরও বলেন, ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে এই মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য চেয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

 হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদ যাত্রার মহাসড়কে ভোগান্তি কমাতে কাজ করে যাচ্ছি। তবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগামী চার দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে। 

তবে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে প্রায় ৪০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবে। মহাসড়কে মোটরসাইকেল মোবাইল টিমও থাকবে।’ 

তিনি আরও বলেন,‘ নলকা সেতু ও মহাসড়কের খানাখন্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ২০ রমজানের মধ্যে মহাসড়কের খানাখন্দ সংস্কার ও নলকায় নতুন সেতুর উত্তরের এক লেন খুলে দেবে বলে জানিয়েছেন তারা।’

/টিটি/
সম্পর্কিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ফিরতি যাত্রায় দুর্ভোগ, বাড়তি ভাড়া আদায়
পরিবহনে পাঁচ দিন পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং, অর্ধেক খালি যাচ্ছে লঞ্চপটুয়াখালীতে বাসে সিট সংকট, যাত্রীশূন্য লঞ্চ
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের