মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে লঞ্চঘাটের ইজারা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় বাধা দেওয়ার কারণেই পৌর কাউন্সিলরের সামনে তার ছেলেকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় যেকোনও সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সদর থানায় কোনও মামলা রুজু হয়নি।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ লিটনের সামনেই প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তার ছেলে ঝলক (২২) নিহত হন। তিনি সরকারি হরগঙ্গা কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৌর মেয়র আব্দুস সালামের ছেলেকে দোষারোপ করা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জে কাউন্সিলরপুত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
কাউন্সিলর লিটন বলেন, মেয়রের ছেলে মানিক কিছুদিন আগে ঘাটের মার্জিন ডাক আনে। পরে কৃষক-শ্রমিকদের কাছে চাঁদা চাওয়ায় তারা স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি মেয়রকে জানালে তিনি তার ছেলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে নিতে বলেন। পরে ঘাটে গিয়ে আমি মানিককে ফোন দিয়ে কথা বলতে ডাকি। তবে গুন্ডার বহর পাঠিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে সে। পরে জিল্লুর, মাসুদ, জালাল, সুমন, নাসির, মানিক চোখের সামনে আমার ছেলেকে মেরে ফেলে।
তবে পৌর মেয়র আব্দুস সালামের দাবি, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। রাজনৈতিক কারণে আমার ছেলের নাম জড়ানো হচ্ছে। তারপরেও সে যদি ঘটনায় জড়িত থাকে ও তা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনে তার যা বিচার হবে তা মেনে নেবো। কিন্তু, অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’
রাতে প্রায় দুইশ’ লোক তার বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করে মেয়র বলেন, পুলিশের কারণে রক্ষা পেয়েছি। আমি রাজনীতি বুঝি না। আমার অবৈধ আয়ের দরকারও নেই। মেয়র হয়ে আমার হয়েছে যত জ্বালা!
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব খান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ এজাহার দাখিল করেনি। তবে এ ঘটনায় নাসির, শফিকুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম নামে তিন জন আটক আছে।









