X
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
১৪ মাঘ ১৪২৯

‘আমার মা ও তার স্বপ্নগুলো মালদ্বীপের আগুনে পুড়ে গেছে’

এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল
১৪ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৬আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫০

‘আমার বাবা অসুস্থ থাকায় পরিবারের হাল ধরতে ২০১০ সালে মালদ্বীপে যান মা। তার স্বপ্ন ছিল বাবার চিকিৎসা করানো ও পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু আমার মা ও তার স্বপ্নগুলো মালদ্বীপের আগুনে পুড়ে গেছে। কখনও ভাবিনি এভাবে মায়ের মৃত্যু হবে। তার স্বপ্নগুলো আর পূরণ হলো না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আছিয়া বেগমের (৫০) বড় মেয়ে নুর নাহার। গত বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) রাতে মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে ১০ শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম একজন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।

জানা গেছে, অপ্রাপ্ত বয়সে দিনমজুর ইসমাইলের সঙ্গে বিয়ে হয় আছিয়ার। কয়েক বছর পর ইসমাইল হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চার ছেলে-মেয়ে। ইসমাইল অসুস্থ থাকায় দিনমজুরের কাজ শুরু করেন আছিয়া। কিন্তু সামান্য আয়ে পাঁচ জনের সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কোনও দিশা না পেয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ করে ২০১০ সালে মালদ্বীপে পাড়ি জমান আছিয়া। সেখানে গৃহকর্মীর হিসেবে কাজ শুরু করেন। 

দীর্ঘ এই সময়ে আছিয়া স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পারেননি। তবে চার ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলেকে বিয়ে করানোর পর তারা আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে আছিয়ার বড় ছেলে রিকশাচালক ও ছোট ছেলে ইটভাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ছেলেরা আলাদা হওয়ায় স্বামীর দেখাশোনা করতে তাকে দুই মেয়ে ও তাদের জামাইকে বাড়িতেই রেখেছেন। 

আছিয়া বেগমের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে

গত ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় হঠাৎ তার বড় মেয়ে নুর নাহারের মোবাইল ফোনে মালদ্বীপ থেকে কল আসে মা। এক ব্যক্তি আছিয়ার মৃত্যুর খবর জানান। কান্নায় ভেঙে পড়েন নুর নাহার। মুহূর্তে পুরো বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নুর নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাবা অসুস্থ থাকায় পরিবারের হাল ধরতে মা মালদ্বীপে যান। তার স্বপ্ন ছিল বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু আমার মায়ের স্বপ্নটা মালদ্বীপের আগুনে পুড়ে গেছে। কখনও ভাবিনি এভাবে মায়ের মৃত্যু হবে। তার স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না।’

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশিসহ ১০ বিদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, ‘মায়ের মরদেহ ফেরত চাই। মায়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। হয়তো একদিন পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে, কিন্তু মাকে আর কখনও ফিরে পাবো না। আমার মায়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

আছিয়া বেগমের স্বামী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সব দোষ আমার। আমার জন্যই সে বিদেশে গিয়েছিল। বিদেশে না গেলে আজ হয়তো এভাবে মৃত্যু হতো না। আমার স্ত্রীর মরদেহ দেখতে চাই। তাকে নিজ হাতে কবর দিতে চাই। টাকা চাই না, আমার স্ত্রীর মরদেহ চাই।’

আছিয়া বেগমের ছোট ভাই তাজমল হোসেন বলেন, ‘অল্প বয়সে আমার বোনকে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার সংসারে নেমে আসে অভাব-অনটন। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর আপা নিজেই দিনজমুরের কাজ করতো। স্বামী অসুস্থ ও ছেলে-মেয়ে ছোট থাকায় নিজেই সংসারের হাল ধরতে মালদ্বীপে যান।  কিন্তু আর ফিরলো না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আছিয়ার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তাদের সহায়তার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে।’

/এসএইচ/
সর্বশেষ খবর
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার উলটে চালক নিহত
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার উলটে চালক নিহত
মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট ১৩ মুসলিম অধ্যুষিত আসন
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট ১৩ মুসলিম অধ্যুষিত আসন
সর্বাধিক পঠিত
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিন: এমপি বাহার
প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিন: এমপি বাহার