দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয় না সড়ক, চলাচলে ভোগান্তি

রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
০৩ জুন ২০২৩, ২১:০৬আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩, ২১:০৬

বছরের পর বছর সংস্কার হচ্ছে না গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি-বেড়াইদেরচালা-বেপারিবাড়ি-লিচু বাগান সড়কটি। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ ঢালাই উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। সাত বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের এমন অবস্থা হলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা।

স্থানীয়রা বলছেন, সোয়া এক কিলোমিটার এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে কাদামাটি জমেছে। গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বেড়াইদেরচালা, দোখলা, মাওনা ইউনিয়নের বেলতলী, কবরঘাটা ও দক্ষিণ বারতোপা গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পোশাক কারখানা রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কটি পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। বর্তমানে সড়ক দিয়ে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও যাতায়াত করা যায় না। মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাসায় একাধিকবার গিয়েও সংস্কারের আশ্বাস পাননি স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কে পিচঢালাই নেই। মাঝেমধ্যে খানাখন্দ ও গর্ত। এসব গর্তে কাদাপানি জমে আছে। হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের এমন অবস্থা হলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা

স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে সড়কটি পাকা করা হয়। তারপর থেকে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বিভিন্ন স্থান ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এখন চলাচলের একবারেই অনুপযোগী। গত সাত বছর ধরে এমন অবস্থা হলেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন পোশাকশ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।’

গিলারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফা বেগম বলেন, ‘সড়কের পুরোটাই ভাঙা। ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হয়। অনেক শিক্ষার্থীরা হাঁটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়। সড়কের আশেপাশে পাঁচটি মাদ্রাসা ও ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলাচলে সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ ঢালাই উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত

স্থানীয় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় এবং বিকল্প সড়ক না থাকায় যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে আমাদের। অনেক সময় যানবাহন চলাচলে কাদাপানি ছিটকে দোকানে এসে পড়ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর বারবার আশ্বাস দিলেও গত সাত বছরে সড়কটি সংস্কার হয়নি।’

গিলারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ‘এই সড়ক দিয়ে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যানবাহন চলাচল করলে ময়লা পানি ছিটকে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।’

স্থানীয় অটোরিকশাচালক মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘খানাখন্দ ও ভাঙা সড়ক দিয়ে রিকশা চালাতে গিয়ে বিভিন্ন অংশ খুলে যায়। প্রায় মেরামত করতে হয়। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা মেরামতে চলে যায়। এই সড়ক চলাচলের উপযোগী নয়।’

চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন

স্থানীয় পোশাকশ্রমিক রেবেকা, জাহাঙ্গীর, খোরশেদ ও আকলিমা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। রিকশার ঝাঁকুনিতে আমাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্র ময়লা পানিতে পড়ে যায়। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে।’

সড়ক সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রমিজ উদ্দিন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হাবিবুল্লাহ জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয় না। তবে ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছে পৌরসভা। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।

/এএম/
সম্পর্কিত
খসে পড়ছে পলেস্তারা, তার ভেতরে নাগরিক সেবা
বাস সার্ভিস বন্ধের প্রতিবাদডাকসু নেতার নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, ভোগান্তি
মির্জাপুর থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত তীব্র যানজট, আটকা হাজারো যানবাহন
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম