দেশে খাদ্যের অভাব নেই উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘ধানের উৎপাদন বেড়েছে। চাল আমদানির জন্য সরকারের এক ডলারও ব্যয় করতে হবে না। কারণ সরকারি খাদ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে খাদ্য সংকট হবে না, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিতে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। কৃষক বেশি বেশি ধান উৎপাদন করে আমাদের স্বস্তিতে রেখেছেন। খাদ্য সংকট নেই। যারা খাদ্য মজুত করে মুনাফা করতে চেয়েছিল, তাদের আশা পূরণ হবে না।’
মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসে বোরো ধান সংগ্রহ-২০২৩ উপলক্ষে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি ছোট ডাটা দিচ্ছি, বিএনপি সরকারের আমলে গম এবং চাল জুন মাসে আমরা মজুত দেখেছি ৪, ৫, ৬ লাখ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ৮ লাখ সামথিং। আমাদের সরকারের আমলে কোনও সময় ১৬ কিংবা ১৮ লাখের নিচে থাকে না। খাদ্য মজুত রাখার ক্যাপাসিটি আছে ২১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গতকালকেই আমাদের স্টক হয়েছে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন।’
সরকার কার্ডের মাধ্যমে খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে ওএমএসের চাল বিতরণ শুরু করবে খাদ্য অধিদফতর। জুলাই মাসের শুরু থেকে টিসিবির মাধ্যমেও চাল বিতরণ শুরু হবে।’
সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়তে আমাদের অপচয় কমাতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চাল চকচক করতে গিয়ে অপচয় হয়। আবার পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। কাজেই সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
এবার বোরো মৌসুমে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন ধান ও চাল কিনবে সরকার উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৪ টাকা। এ ছাড়া গম ৩৫ টাকা করে কেনা হবে। চার লাখ টন ধান, ১২ লাখ ৫০ হাজার টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের কৃষক সচেতন হলে ধানের নায্যমূল্য পেতে পারেন। মৌসুমের শুরুতে তারা জমিতে ধান কেটে সেখানে মাড়াই করে বিক্রি করে দেন। ঘরে নিতে চান না। এ সুযোগে ধানের দাম কমিয়ে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেন। কৃষকরা ঘরে ধান ধরে রাখলে নায্যমূল্য পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাহায্যে কৃষকের ধানের ময়েশ্চার চেক করে খাদ্যগুদামে আনলে কৃষকের সুবিধা হবে। কর্মকর্তারা ধান ভেজা বলে ফেরত পাঠাতে পারবেন না। ফেরত পাঠালে কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারান। গুদামে ধান দিতে এসে কোনও কৃষক যেন কষ্ট না পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুবেল মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল, ঢাকার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী, কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোস্তাক সরকার প্রমুখ।









