মাদারীপুরের শিবচরে দরিদ্র পরিবারের সন্তান শারমিনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী। শারমিন উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের রহমতুল্লাহ হাজীর কান্দি গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে। সে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয় নুর উদ্দিন মাদবরের কান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই ‘দারিদ্র জয় করে জিপিএ-৫ পেলো শারমিন, কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা’- শিরোনামে সংবাদ প্রচার করে বাংলা ট্রিবিউন। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীসহ স্থানীয় লোকজনের।
মেয়ের এই সফলতায় বাবা-মা খুব খুশি। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে মেয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিল পরিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চিফ হুইপের পক্ষে মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মুন্নী, বন্দর খোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সাদ্দাম ও বন্দর খোলা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লতিফা ইয়াসমিন লতা মিষ্টি নিয়ে শারমিনের বাড়ি যান।
এসময় তারা শারমিনের পড়ালেখার সব দায়িত্ব জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ গ্রহণ করবেন বলে জানান। এদিকে, এ খবর পেয়ে শারমিন ও তার পরিবারের দুশ্চিন্তা কেটেছে, দারুণ খুশি তারা।
শারমিনের মা লাকী বেগম বলেন, ‘মেয়েটি কষ্ট করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেয়ের কলেজে লেখাপড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিলাম। দারিদ্রতার কারণে মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে পারবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। এমপি সাহেব আজ মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
শারমিন বলেন, ‘দরিদ্রতার কষাঘাতের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্ট করে আমি পড়ালেখা করেছি। আমার স্বপ্ন ডাক্তার হবো। রোগীদের সেবা করবো। আজ আমার বাড়ি চেয়ারম্যান সাহেব এসেছেন। ম্যাম এসেছেন। আমার পড়াশোনার ভার চিফ হুইপ মহোদয় নিয়েছেন। জেনে খুব খুশি। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। খুব চিন্তিত ছিলাম কলেজে ভর্তি নিয়ে। আজ চিন্তামুক্ত হলাম। আমি পড়ালেখা করতে পারবো। ডাক্তার হয়ে দেশ ও দেশের জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
বন্দরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সাদ্দাম বলেন, ‘শারমিন আমার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মেয়ে। সে কষ্ট করে পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলে গিয়ে ভালো একটি রেজাল্ট করেছে। এজন্য আমরা খুব খুশি। আমাদের অভিভাবক চিফ হুইপ সাহেব ওর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। এজন্য আমি বন্দরখোলাবাসীর পক্ষে তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
আরও পড়ুন: দারিদ্র্য জয় করে জিপিএ-৫ পেলো শারমিন, কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা
মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মুন্নী বলেন, ‘আমি আসলে নিউজের মাধ্যমে জানি যে বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মেয়ে এতো সুন্দর রেজাল্ট করেছে। খবরটি আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয়ের কাছে যায়। পরে তিনি আমাকে জানান। আমি তার পক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মিষ্টি নিয়ে আসি। শারমিন ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হলো। আমি গিয়ে তাকে জানাবো। অবশ্যই তিনি শারমিনের পাশে থাকবেন। এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি শারমিনের লেখাপড়ার সব দায়িত্ব নেবেন।’
এ সময় নূর উদ্দিন মাদবরের কান্দি এসইএসপিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, বন্দরখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি খোকন শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক রকিবুজ্জামান রুবেলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।









