ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সানজিদ হাওলাদার (২১) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ অক্টোবর) ইতালির সময় রাত ১০টার দিকে তারান্ত শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহত সানজিদ হাওলাদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাছার এলাকার সাবেক মেম্বার মো. লিটন হাওলাদারের ছেলে ও ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাতিজা। চার ভাইবোনের মধ্যে সানজিদই সবার বড়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাওলাদার।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে চেয়ারম্যান জানান, ২০২১ সালে সানজিদ উন্নত জীবনযাপনের আশায় পাড়ি জমান ইতালি শহরে। বুধবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ইতালিতে নাগরিকত্বের কাগজপত্র করাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার জন্য নিজের বাসা থেকে বের হয়ে শহরের তারান্ত এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
নিহত সানজিদের বাবা মো. লিটন হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। সকালে ওর মামাতো ভাই আসিফ খালাসি আমাদের কাছে ফোন দিয়ে ওর মৃত্যুর সংবাদ জানান। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমার ছেলে লাশ যাতে আমি বাড়িতে আনতে পারি।’
সানজিদের মা শান্তি বেগম বলেন, ‘আমার তিন ছেলেমেয়ের মধ্যেই ছেলেটাই ছিল সবার বড়। আমাদেরকে ভালো রাখার জন্য গিয়েছিল ইতালি। আজকে সে লাশ হলো। আপনারা আমার বাজানরে আইনা দেন। আমি ওর মুখখানা দেখবো।’
ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সকালে ভাতিজার মৃত্যুর খবরটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু সে কোথায় আছে সেটা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। কোথায় আছে কীভাবে আছে সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আমাদের এলাকার যারা ইতালিতে থাকে তাদের ওর সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি। এ ছাড়াও আমি সদর উপজেলা ইউএনও মহোদয়কে অবগত করেছি।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে চেয়ারম্যান সাহেব অবগত করেছেন। আমরা অবশ্যই লাশ বাংলাদেশে আনার জন্য যে সকল প্রক্রিয়া আছে সেগুলো গ্রহণ করবো।’