X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
সাবদিতে ফুলের বাগান

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে জমেছে ফুলের ব্যবসা

আরিফ হোসাইন কনক, নারায়ণগঞ্জ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৯

প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের হাওয়া। কোকিলের কণ্ঠে বসন্তের আগমনী গান। ফুলে ফুলে ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। গাছে গাছে গজেছে নতুন কুড়ি। বসন্ত ও ভালোবাসার যুগপৎ এই উদযাপন ঘিরে বাসন্তী সাজে ফুলের বাগানে ভিড় জমিয়েছেন তরুণ-তরুণীরা। তাদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাবদি গ্রামের ফুলের বাগান। জমে উঠেছে বেচাকেনা। তরুণদের গায়ে রঙিন পাঞ্জাবি, তরুণীদের পরনে বাসন্তী শাড়ি, খোঁপায় গাঁদার মালা; হাতে ও গলায় তাজা ফুলের অলংকার—এ যেন বসন্ত উৎসব।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাবদি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। তাই দিনভর বাগানে ভিড় করেছেন দর্শনার্থী ও ফুলপ্রেমীরা। সবার হাতে হাতে ফুল ও গলায় মালা। কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। এই সুখস্মৃতি ধরে রাখার জন্য অনেকে ছবি তুলছেন।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন একইদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবস সামনে রেখে ফুল বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানের চাষিরা। কারণ দিবসগুলোতে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য ফুলের বিকল্প নেই।

দিবস সামনে রেখে ফুল বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানের চাষিরা

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি গ্রামের ৮০ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি ফুল চাষ করেন। পাশাপাশি সাবদির আশপাশের দিঘলদি, সেলশারদি, মাধবপাশা ও আইছতলা গ্রামের আরও কয়েক হেক্টর জমিতে ফুল আবাদ হয়। এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের কয়েক গ্রামেও আবাদ করেন চাষিরা। এসব গ্রামের বাগানগুলোতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, কসমস, দোলনচাঁপা, নয়নতারা, মোরগঝুঁটি, কলাবতি, বেলি, জিপসি, চেরি, কাঠমালতি, আলমন্ডা, জবা, রঙন, টগর ও রক্তজবাসহ ২০-২৫ ধরনের ফুল চাষ হয়। তবে এবার অতিরিক্ত শীত ও বৃষ্টির কারণে কিছু ফুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কম লাভ হবে বলে জানালেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, সাবদি গ্রামের ৮০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফুল চাষ করেন দুই শতাধিক চাষি। এখান থেকে বছরে ছয় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। এখানকার ফুল বিভিন্ন স্থানে যায়।

দিনভর বাগানে ভিড় করেছেন দর্শনার্থী ও ফুলপ্রেমীরা

চাষিরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের ফুলের পাইকারি বাজার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় সাবদি। সামনের দিবসগুলো ঘিরে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের আগমনে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ডালিয়া ফুল ৩০ টাকা, আকারভেদে ১০-২০ টাকায় বিক্রি করা হয়। মাথার মুকুট বা ক্রাউন ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ১০-২০ দরে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, দোলনচাঁপা ও নয়নতারা বিক্রি হয়।

এবার দেড় হেক্টর জমিতে জারবেরা, বাগানবিলাস ও চন্দ্রমল্লিকাসহ ছয় রকমের ফুল চাষ করেছেন সাবদি গ্রামের সাধন চন্দ্র মন্ডল। কিছুদিন আগে বৃষ্টিতে দুই দফায় চারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে এই চাষি বলেন, ‘বৃষ্টিতে বাগান তলিয়ে অনেক গাছ পচে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত তিনবার চারা লাগিয়েছি। তৃতীয়বার লাগানো গাছে কিছু ফুল ফুটেছে। তবে অধিকাংশ গাছে ফুল আসেনি। সামনের দিবসগুলো ঘিরে ফুল বিক্রি শুরু করেছি। বারবার গাছ লাগানোর কারণে এবার লোকসান গুনতে হবে। পুঁজি উঠবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’ 

বাগানে ফুটেছে নানা রঙের ফুল

সাবদি গ্রামের বাগানে বিভিন্ন ফুল দিয়ে মালা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী ও বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা। বাগানের পাশে বসে গাজরা তৈরির কাজ দেখভাল করছেন ফুল চাষি মনিরা বেগম। তিনি বলেন, ‘এবার ঝড়বৃষ্টিতে ফুলের চারার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও যেসব ফুল ফুটেছে, তা দিয়ে গাজরা, লহর ও মালা তৈরি করছি। ডালিয়া, গাঁদা ও মামসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ করেছি। এসব ফুল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। বিক্রি করে এবার লাভ হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে সাবদি গ্রামের ফুলের বাগানে ঘুরতে এসেছেন মনিকা আক্তার। প্রতি বছর ফুলের টানে সাবদি গ্রামে ফুলের রাজ্যে ঘুরতে আসি উল্লেখ করে মনিকা বলেন, ‘গ্রামের চারদিকে নানা রকমের ফুল দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এ কারণে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ছুটে আসি।’

চাষাঢ়া থেকে বান্ধবীদের নিয়ে সাবদি গ্রামের ফুলের বাগানে ঘুরতে এসেছেন নাদিয়া আক্তার। গ্রামজুড়ে ফুলের বাগান দেখে মুগ্ধ হয়েছি জানিয়ে নাদিয়া বলেন, ‘গ্রামের চারদিকে ঘুরে ঘুরে বান্ধবীরা নানা রকমের ফুল দেখেছি। ফুলের মালা কিনেছি। বাড়ির স্বজনদের জন্য বিভিন্ন রকমের ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

ফুলের বাগানে দর্শনার্থী ও ফুলপ্রেমীদের ভিড়

বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ফুলের বাগানে ঘুরতে আসা রনি তালুকদার বলেন, ‘মন ভালো করার অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে ফুল বাগান। এ কারণে বাগান দেখতে চলে এসেছি। ফুল দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’

সাবদি গ্রামের চাষিরা বছরে ছয় কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মুহাম্মদ শাহ আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রামের ৮০ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি ফুল চাষ করেন। এখানে মৌসুমিসহ নানা রকমের ফুল চাষা হয়।’

শীত ও বৃষ্টিতে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চাষিরা নতুন গাছ লাগিয়েছেন; সেগুলো থেকে দেরিতে ফুল আসবে উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু কিছু ফুল মার্চ মাসে আসবে। তখন দিবস থাকবে না। ফলে ফুল বিক্রি কম হবে, চাষিদের লাভও কম হবে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ আছে।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
বিশেষ দিনগুলোতে ফুল বিক্রি কমেছে
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসশ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল নিয়ে যা বলছেন ব্যবসায়ীরা
লাভ বার্ড পাচারের অভিযোগে আটক এক বাংলাদেশি
সর্বশেষ খবর
আন্ডারপাসে পিকনিকের বাস আটকে শিশু নিহত, আহত ২২
আন্ডারপাসে পিকনিকের বাস আটকে শিশু নিহত, আহত ২২
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আমিরাত ও যুক্তরাজ্য গেলেন রাষ্ট্রপতি
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আমিরাত ও যুক্তরাজ্য গেলেন রাষ্ট্রপতি
আবারও হাবের নেতৃত্বে শাহাদাত হোসাইন
আবারও হাবের নেতৃত্বে শাহাদাত হোসাইন
গাজীপুরে তুলার গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে তুলার গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সর্বাধিক পঠিত
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বেইলি রোড ট্র্যাজেডিব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা