বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন অতীতের যেকোনও নির্বাচনের চেয়ে অনেক কঠিন হবে। কাজেই নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করুন। আগামীর কঠিন নির্বাচনে যেন জনগণের সমর্থন নিয়ে পুলসিরাত পার হতে পারি।’
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ হীরাঝিল এলাকায় গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন উপভোগ করছে। এটা অনেকের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই ৮১ সালের আগে থেকে দেখেছি কীভাবে আমাদের দলের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে ধরে নিতে হবে এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।’
আওয়ামী লীগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের মাথা পালিয়ে গেছে কিন্তু লেজসহ শরীরের অনেকাংশ অবশিষ্ট রয়ে গেছে। তারা কিন্তু ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাদের ভেতরে অনেক এজেন্ট ঢুকিয়ে দিয়েছে।’
ডামি নির্বাচনে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ডামি নির্বাচনে বিশ্বাস করি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল, আমরা নির্বাচনে যাবো, নির্বাচন চাইবো ও করবো এটাই স্বাভাবিক। জনগণের সমর্থন আমরা পাবো, বেশি পেলে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যা হওয়ার সেটা হবে। জনগণ যাকে বেশি সমর্থন দেবে তারা দেশ পরিচালনা করবেন। আমি ডামি নির্বাচনে বিশ্বাসী না, নিশিরাতের নির্বাচনে বিশ্বাসী না, ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিশ্বাসী না। আমরা স্বচ্ছ স্বাভাবিক নির্বাচনে বিশ্বাসী।’
জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন মুক্তভাবে ভোট দেবে তখন অনেক চিন্তাভাবনা করে ভোট দেবে। এর জন্য জনগণের আস্থা আপনার পক্ষে রাখতে হবে। জনগণের আস্থা রাখতে হলে আপনাদের আচার-আচরণ সেরকম রাখতে হবে। আমরা যদি রাষ্ট্র মেরামত করতে চাই, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই—তাহলে অবশ্যই আমাদের জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে হবে। আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। তা না হলে আমাদের এতদিনের আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ জন্য জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।’
এ সময় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।









