মালিকের সম্পত্তি ক্রোক করে পাওনা পরিশোধের দাবি জানালেন ডার্ডের শ্রমিকরা

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৮ জুলাই ২০২৫, ২১:০৯আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ২১:০৯

ডার্ড গ্রুপের মালিকের সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা পরিশোধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রমিকরা। সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। কারখানাটি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর (সাটিয়াবাড়ী) এলাকায় অবস্থিত।

শ্রমিকদের পক্ষে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার সুনিল ঘোষ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর মালিকের নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত কারণ দেখিয়ে দীপ্ত অ্যাপারেল লিমিটেড, দীপ্ত গার্মেন্টস লিমিটেড, ডার্ড ওয়াশিং প্লান্ট লিমিটেড, ডার্ড গার্মেন্টস লিমিটেডসহ ডার্ড গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ১৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে বের করে দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। 

তিনি বলেন, এরপরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। আইন মোতাবেক প্রাপ্য সুবিধা থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশের কম সুবিধার কথা উল্লেখ করে চুক্তি করা হয়েছে। সেই চুক্তিও এখানও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি মালিকপক্ষ। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রম পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে মালিকপক্ষের প্রকাশিত তথ্য মোতাবেক ২৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে উল্লেখ করে সরকারের কাছে লোনের জন্য আবেদন করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ১০ ডিসেম্বর সরকার বরাদ্দ করা সুদমুক্ত ১৩ কোটি টাকা পায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এই কর্মকর্তা বলেন, পরে ১৩ কোটি টাকার আংশিক পাওনা পরিশোধ করেছেন। ডার্ড গ্রুপের শ্রম অসন্তোষ নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অংশীজনদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্টদের জানানো হয় ওই বছরের ৭ মের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করতে মালিকদেরকে নির্দেশনা দেয়। পালিয়ে থাকা মালিকদের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করার জন্য স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ এবং ২৩ এপ্রিল ৯ম ও ১০ম সভায় ডার্ড গ্রুপের মালিককে দেশে ফেরানোর জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করার সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে দুই শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করেছেন। শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩৬ ধারার ক্ষমতা বলে সম্পত্তি ক্রোক করে শ্রমিক-কর্মচরীদের পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানান শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এসব বিষয়ে ডার্ড গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/এফআর/
সম্পর্কিত
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
অধিকাংশ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপ
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি