ফরিদপুরে চারটি আসনে নির্বাচনি প্রচার জমে উঠেছে। তবে এবারের নির্বাচন ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ফরিদপুর-৪ আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট আসনটি উন্মুক্ত রাখায় দুর্বল হয়ে পড়েছে তাদের দলীয় প্রার্থীরা। অপরদিকে ভোট টানতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে টানছেন বিএনপির প্রার্থী। আর সামাজিক বিভিন্ন কাজ করে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিও রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। আসনটির তিনটি উপজেলা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণিরপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-৪ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী।
চরবেষ্টিত দুটি উপজেলা সদরপুর ও চরভদ্রাসন এবং ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসন। বিগত দিনে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর দখলে ছিল। ২০০২ সালে উপনির্বাচনে একবার বিএনপির প্রার্থী জিতেছিল। তবে এবার হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে।
এখানে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আট জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যার সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে বলছেন ভোটাররা। এরপরের অবস্থান জামায়াতের প্রার্থী মো. সরোয়ার হোসেনের। জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের যেকোনও একজন সরে গেলে জামায়াত জোটের সঙ্গে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসহাক চোকদার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মুহাম্মদ মজিবুর হুসাইন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে সদরপুর উপজেলায় অবস্থান করে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকায় কৌশল পরিবর্তন করে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীদের। এ কারণে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির এই প্রার্থী।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন জানান, সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর অনুসারী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়েছেন বিএনপির প্রার্থী। মূলত মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে এটি করেছেন। তারা প্রত্যেকে প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচারে আছেন নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা।
ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকার চা দোকানি খন্দকার জাহিদের ভাষ্যমতে, বিগত দিনে কাজী জাফর উল্যাহকে ভোট দিলেও এবার ধানের শীষে ভোট দেবেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এখানে আট প্রার্থী রয়েছেন। তবে বিগত দিনে ভোটের জন্য আমি যেভাবে লড়াই করেছি এবং যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছি, অন্য কেউ তার আশপাশেও নেই। ১২৮ বার জেলে গিয়েছি, জুলুমের শিকার হয়েছি নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।’
এই আসনে বেশ আলোচনায় আছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার বেগ পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ক্রীড়া জগতে পরিচিতি রয়েছে পরিবারটির।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘তিন উপজেলার ভোটারদের মধ্যে মামলা ও গ্রেফতারে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বিএনপি। আমার সবচেয়ে কাছের লোকের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
এই আসনে জোরেশোরে প্রচারে আছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্যাও। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এই নেতাও ভোটের মাঠে পিছিয়ে নেই। তবে মূল বাধা জামায়াত জোটের অমীমাংসিত প্রার্থী নিয়ে। এসব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা এই সমস্যা চূড়ান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করছি আমাদের জোটের যেকোনও একজনকে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।’
প্রসঙ্গত, ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। তার আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ফরিদপুরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোবাহান মুন্সি। সদরপুর উপজেলার কলেজ মোড় এলাকায় ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের বাসায় উপস্থিত হয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।








