আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে একটি প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ফতুল্লা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়ন, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে তার নির্বাচনি এলাকা গঠিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না।
অভিযোগে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না। ওই দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনৈতিক উপায়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে তারা একটি পক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছেন। ওই দুই কর্মকর্তা একটি বিত্তশালী ও শিল্পপতি প্রার্থী এবং তার কর্মীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের আচরণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিপন্থি এবং নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এ ধরনের কার্যকলাপে জড়িত নই। আমার মা অসুস্থ, তাই তাকে নিয়ে নানা ঝামেলায় আছি। নির্বাচনের পক্ষপাতমূলক আচরণসহ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এটার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানা নেই। কারও পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। নির্বাচন সুষ্টু করতে আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়াহান কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনার একটা অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাছে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা আসেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।’









