‘মা, ভাই ও ছেলে একসঙ্গে চলে গেল, কী নিয়ে বাঁচবো’

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৩আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪

“আমার সোনার ছেলেটা চলে গেল। চাঁদের মতো ছেলেকে ছেড়ে কী করে থাকবো। একমাত্র ভাইটাও চলে গেলো। মাকেও হারিয়ে ফেললাম। এখন কী নিয়ে বাঁচবো আমি,” কান্না করতে করতে এসব কথা বলছিলেন ডা. ইশরাত জাহান রুবা। দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এ চিকিৎসক হারিয়েছেন তার তিন প্রিয়জনকে। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজবাড়ী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কের পাশে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে রুবার আহাজারি দেখা যায়।

নিহতরা হলেন, লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), তার ছোট ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) ও রেহেনার নাতি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বির এবং ডা. ইশরাত জাহান রুবার ছেলে তাজবীর (৭)। নিহত আহনাফ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষার্থী ছিলেন।

রুবা বলেন, “আমি কেমন করে বাঁচবো তোরে ছাড়া তাজবীর। আমি কেন আগের দিন আমার বাচ্চাটারে নিয়ে গেলাম না, তাহলে আমার বাচ্চাটা বেঁচে যেতো। আমার ছোট ভাইটাও চলে গেলো। ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা ঢাকায় আসতেছে, এ জন্য আমি বাসায় রান্না করছিলাম। কিছুই জানতাম না। সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, আমার মা আর নেই। ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে, জানতে পারলাম ছোট ভাই ও আমার একমাত্র সন্তানও মারা গিয়েছে। সন্তানের লাশ রাতে শনাক্ত করেছিলাম, আর ছোট ভাইয়ের লাশ আজ সকালে পেয়েছি।”

সন্তান ও ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এ নারী বলেন, “আমি ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যাই, তখন আমার ছেলে বলছিল মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা, সে বলল মামার কাছে ঘুমাবো। আমার ছেলের মামাও নেই....আমার ছেলেও নেই এখন। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে।”

তাজবীরের চাচা আতাউল গণি মুক্তাদির বলেন, “আমার ভাতিজারা ঢাকায় মিরপুরে থাকে। ওর বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে সুদানে রয়েছে। আমার ভাতিজার মা একজন চিকিৎসক। তাজবীর ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে শ্রেণিতে পড়ে। ভাতিজা ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছিল দাদা বাড়ি ও নানা বাড়িতে ঈদ করতে। ঈদ শেষ করে বুধবার বিকালে ভাতিজা তার নানি, খালা ও মামার সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল। তাদের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে তাজবীরের খালা বেঁচে ফিরে আসলেও বাকিরা মারা গেছে। আমার ভাতিজা আমাদের বংশের প্রদীপ ছিল। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম।”

/এএম/এবিএম/
সম্পর্কিত
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী