মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ঘর ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গড়ালো মর্মান্তিক পরিণতিতে। যে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল বিরোধ মেটানোর, সেই বৈঠকই পরিণত হলো সহিংসতার মঞ্চে। ভাইদের হামলায় প্রাণ গেলো বজলুর রহমান ওরফে রাবিল হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির।
আহত হয়েছেন তার ছেলে সাকিবুর রহমান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের নতুন বসতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাবিল ওই গ্রামের মৃত ধলা মিয়ার ছেলে। একসময় স’মিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলা মিয়ার সাত ছেলে ও এক মেয়ের পরিবারে আগে থেকেই ছিল সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন। এর মধ্যে বড় ছেলে ও একমাত্র মেয়ে মারা গেছেন। বাড়ির একটি টিনশেড আধাপাকা ঘরের চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষে রাবিল পরিবারসহ বসবাস করতেন, আর বাকি দুটি কক্ষে থাকতেন তার বোন রঞ্জু বেগমের সন্তানরা। সম্প্রতি তারা অন্যত্র চলে গেলে খালি হওয়া ওই দুটি কক্ষ নিয়েই নতুন করে দানা বাঁধে বিরোধ।
এই বিরোধ মেটাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বসে সালিশ। কিন্তু মীমাংসার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাবিলের সঙ্গে তার ভাই রাশিদুর রহমান (পিয়ারা), জিয়াউর রহমান (চারু) ও সাইদুর রহমান (হাবিল) ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাগবিতণ্ডা হাতাহাতিতে গড়ায়।
অভিযোগ আছে, কিলঘুষি ও লাথির আঘাতে রাবিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় তার ছেলে সাকিবুর রহমান আহত হন এবং হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে পুলিশকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করতে দেখা যায়। এ সময় স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।








