রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির বিটুমিন ও কার্বন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক ঘটনার ৫ দিন পর মারা গেছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। দুই শ্রমিক হলেন সোহেল রানা (২৪) ও শাওন মুন্ডা (১৬)। এর মধ্যে সোহেল রবিবার রাত আড়াইটায় এবং শাওন সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে মারা যান। সোহেলের দেহের অন্তত ৬০ শতাংশ এবং শাওনের দেহের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
মৃত সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং শাওন মন্ডা (১৬) মৌলভীবাজার জেলার জুরি উপজেলার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডার ছেলে।
পুলিশ ও ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির লোকজন আহত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তারা কারখানার বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন ও কার্বন তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হলে কারখানা ও এলাকাবাসী দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ বছর আগে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালীর সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতরকে ম্যানেজ করে জনবহুল এই এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কারখানাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলতি বছর পুনারায় অনুমোদন না নিয়েই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন মালিকপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি হতে বের হওয়া টায়ার পুড়ানোর কালো ধোঁয়ার দুর্গন্ধে তাদের বাড়িঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসে কালো ধোঁয়া এসে ঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, আমরা মারা যাওয়া দুই শ্রমিককে বাঁচাতে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তাদের বাঁচানো গেলো না।
তিনি দাবি করেন কারাখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেনি। বয়লারের ভেতরের অতিরিক্ত গরম গ্যাস বের হয়ে দুই শ্রমিক দ্বগ্ধ হন। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অসাবধানতার জন্য দুই শ্রমিক আহত হন। কোম্পানির পক্ষ হতে তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটি এখনও তালাবন্ধ আছে এবং ম্যানেজমেন্টের সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে জানতে রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদের ফোনে কয়েকবার কল দিলে রিসিভ করেননি।









