ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গোপনে দুই ছাত্রীর ছবি তোলার অভিযোগে আটক হওয়া দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা এলাকায়। তিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী উল্লেখ করেন, খাবার খাওয়ার পর তিনি কয়েকজন ছাত্রীর গোপনে ছবি তুলেছিলেন। তিনি এ কাজকে ভুল বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে কারও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ছবি আর তুলবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।
মুচলেকা গ্রহণের সময় ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের পর ওই ব্যক্তিকে নিরাপত্তা কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত গাড়িও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না। এসব শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।








