টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ এক প্রবাসীকে গভীর রাতে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতভর গ্রামীণ রাস্তায় পড়ে থাকার পর গতকাল রবিবার সকালে তাকে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি তার বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। এখন সেখানে আছেন।
ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। শনিবার দিবাগত রাতে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। রবিবার দিনের বেলায় বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে অমানবিক বলছেন স্থানীয় লোকজন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে জামাল উদ্দিন সখীপুরের কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন বোনের জামাই আবদুল গফুরের কাছে। পরে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর জামাল সৌদি আরব যান। সেখানে প্রায় ১২ বছর ছিলেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না।
জামালের স্বজনদের ভাষ্য, গত শনিবার গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে জামালকে কালমেঘা গ্রামে পৈতৃক ভিটার পাশের রাস্তায় রেখে চলে যান। তিনি সারা রাত সেখানে প্লাস্টিকের বস্তার ওপর শুয়ে ছিলেন। রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পান। এ সময় তার পাশে দুটি ব্যাগ ছিল। পরে বৃষ্টি শুরু হলে জামালের ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল বলেন, ‘জামাল বিদেশে যা আয় করেছেন, সব স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। ভাই অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে স্ত্রী ও সন্তানরা অনীহা প্রকাশ করেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই মানবিক কাজ হয়নি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামাল উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার স্ত্রী-সন্তানরা তাকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের একটি নির্জন সড়কে ফেলে রেখে চলে যান। সারা রাত প্লাস্টিকের বস্তার ওপর শুয়ে থাকার পর রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি চরম মানবেতর অবস্থায় পড়েন। এতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তবে স্ত্রী রিনা আক্তার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, কয়েক মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে ডিভোর্স দিয়েছেন। তাই জামালের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই এবং ওই রাতে জামাল কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার ছেলে আবু রায়হান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক ভালো নয়। তিনি পোশাক কারখানায় স্বল্প বেতনে শ্রমিকের কাজ করেন। তবে অসুস্থ বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি।
চাচা জামাল উদ্দিন নিজের বাড়িতে আছেন জানিয়ে ইসমত আরা বলেন, রাস্তায় অসুস্থ চাচাকে পড়ে থাকতে দেখে তার খারাপ লাগে। তাই বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
সখীপুরের বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অত্যন্ত অমানবিক। তার স্ত্রীর বাড়ি অন্য জেলায় হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান জটিল। তবে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, ঘটনাটিকে অমানবিক। তবে থানায় এ ব্যাপারে কেউ কোনও অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।








