নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা হাজত থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজমেরী ওসমানের সমর্থনে সরকারবিরোধী মিছিল করে নাশকতার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানাতে ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম তাদের একটি মোবাইল ফোন দেন। তবে তারা কৌশলে ওই ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় হাজতের দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন। এ কারণে তাদের দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ঘটনায় একজন এসআই ও একজন পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মূলত হাজতে থাকা আসামিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য ডিউটি অফিসারের কাছে অনুরোধ করেন। এই অজুহাতে তারা ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেন। সেই ফোন দিয়ে তারা ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। সোমবার আদালতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তারা হলেন—আবরার আহমেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), ফেরদৌস (১৮), পলক (১৭), আবু বকর (১৬), তানভীর (১৫), লিমন (১৭) ও নয়ন (১৮)। তারা সবাই যুবলীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর থেকে তাদের ফতুল্লা থানা হাজতে রাখা হয়। এ সময় কৌশলে তাদের কাছে একটি মোবাইল ফোন পৌঁছে যায়। ওই ফোন দিয়ে তারা সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানকে উদ্দেশ করে ভিডিও বার্তা ধারণ করে এবং তা অনুসারীদের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেফতার আসামিরা হাজতের ভেতরে বসে আছেন। তারা বলছেন, ‘আজমেরী ভাইয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী ধন্য। আমাদের এ বিপদ কাটিয়ে একদিন সুদিন আসবে, ইনশাআল্লাহ। আজমেরী ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’
অপর একটি ভিডিও বার্তায় তাদের বলতে শোনা যায়, ‘আসসালামু আলাইকুম ভাইজান। আজ আপনার প্রোগ্রামে আমরা অ্যাটেন্ড করতে পারিনি। আমরা যেতে চেয়েছিলাম। আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করতে গিয়ে আজকে এই কারাবরণ করতে হচ্ছে। আমরা আপাতত জেলের ভেতরে। এটা কিসের বাকস্বাধীনতার দেশ? কিসের মুক্তির দেশ? আমরা স্বাধীনতা চাই।’









