টাঙ্গাইলের বাসাইলে অপহরণের ২৭ দিন পর এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমন মিয়াকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ কসাইবাড়ি এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং ইমন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার ইমন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী মিয়ার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান তিনি। অপহরণের ঘটনায় করা মামলায় ইমনের বাবা ইদ্রিস আলী মিয়া, মা নাজমা বেগম ও বড় বোন ছাবিনা আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় ইমন ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ইমনের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
একপর্যায়ে গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাসাইল সাহাপাড়া ব্রিজের কাছে ইদ্রিস আলী, নাজমা বেগম ও ছাবিনা আক্তারের সহযোগিতায় ইমন ওই ছাত্রীকে একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি বাসাইল থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। পরে ১০ আগস্ট ইমন মিয়াকে প্রধান আসামি করে চার জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ ও র্যাব ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার ও মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমন একটি কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও পর্যটন এলাকা বাসুলিয়ায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং বিভিন্ন এলাকায় মারামারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাকে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, “অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। সেইসঙ্গে মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বাসাইল থানায় হস্তান্তর করে। মামলার প্রধান আসামি ইমনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”









