ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান চালিয়ে না পেয়ে তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন (৬০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতার ব্যক্তির দলীয় পদবি না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। তার নামে থানায় কোনও মামলা নেই। পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কলিম উদ্দিনের পরিবার জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জনের একদল ব্যক্তি এসে দরজায় কড়া নাড়ে। এর মধ্যে কয়েকজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিলেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ পরিচয় দিলে কলিম উদ্দিন দরজা খুলে দেন। সেই সময় কলিম উদ্দিন, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, মেয়ে হ্যাপি আক্তার ও ছেলের বউ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাদের কাছে রিফাত সম্পর্কে জানতে চায়। রিফাত বাড়ি নেই ও রাজনীতি করায় পরিবার তাকে ত্যাগ করেছে ও যোগাযোগ নেই বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে কথা আছে বলে রিফাতের বাবাকে বাইরে ডেকে নেয় পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে যায়। রবিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠায়।
কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জন ব্যক্তি আমাদের বাড়ি এসে দরজায় কড়া নাড়ে। আমার স্বামী ঘর খুলে দেয়। তখন বাইরে পুলিশের পোশাক পরা ও গেঞ্জি প্যান্ট পরা পোশাকে কয়েকজনকে দেখতে পাই। আমাদের বাড়িতে আমি আমার স্বামী, মেয়ে ও ছেলের বউ ছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমার ছেলের কথা জানতে চায়। আমরা বলি সে প্রায় ২-৩ বছর ধরে বাড়ি নেই। রাজনীতি করে তাই তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। এই কথা বলার পর পুলিশ কথা আছে বলে আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে রাস্তায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যায়। আজ তাকে আদালতে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষিকাজ করে। রাজনীতি করে দেখে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না। আমার স্বামী কোনও রাজনীতি করে না। তার নামে কোনও মামলা নেই। ছেলে রাজনীতি করে তাই আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমার স্বামী তো কোনও দোষ করে নাই।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘ওই ব্যক্তির ছেলে রিফাত নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা। তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে মিছিল হয়েছে। কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেছেন, রিফাত নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা এবং তার পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। সেই কারণে কলিম উদ্দিনকে পেন্ডিং একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’
কলিম উদ্দিনের নামে কোনও মামলা আছে কিনা কিংবা তিনি আওয়ামী লীগের কোনও পদধারী নেতা কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘না, তার নামে কোনও মামলা নেই। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক—এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে রিফাত আহমেদ নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দেন নিষিদ্ধ যুবলীগ কর্মী হিসেবে। তবে দলে তার কোনও পদবি নেই।
রিফাত আহমেদ বলেন, ‘আমি যুবলীগের কর্মী। দলের কোনও পদে নেই। আমার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আমাকে রাজনীতি করতে নিষেধ করেছেন। তারপরও রাজনীতি করি। আমাকে না পেয়ে আমার কৃষক বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমার বাবা কোনও রাজনীতি করেন না। আমার জন্য পুলিশ আমার বাবাকে হয়রানি করতে গ্রেফতার করেছে। শুধু আমার বাবাকেই নয়, রাতে পুলিশ আমার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া শাহীন নামে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছে। শাহীন কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। একটা নিরীহ ছেলে। পুলিশ যা ইচ্ছা এখন তাই করছে।’
শাহিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘অপরাধীরা কখনোই অপরাধ স্বীকার করে না। শাহীনকে যথেষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিফাতের নেতৃত্বে যে মিছিলটি হয়েছে, সেই মিছিলে শাহীনকে দেখা গেছে।’









