লৌহজং উপজেলার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার শিকার হয়ে ভিটেবাড়ি ছাড়ার উপক্রম এখন উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক হিন্দু পরিবারের। ২৩ এপ্রিল শনিবার ইউপি নির্বাচনের আগে ও পরে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর রোষানলে পড়ে শত শত হিন্দু পরিবার।
উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম পিংরাইল। এ গ্রামে ৫৫৮ জন হিন্দু ভোটার। ইউপি নির্বাচন বা জাতীয় নির্বাচনের সময় বলির পাঠা হতে দেখা যায় এই হিন্দু পরিবারগুলোকে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা দফায় দফায় হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় রক্ষা পায়নি ধর্মীয় উপাসনালয় রাধাগোবিন্দ মন্দির। চরম আতঙ্কিত এই সম্প্রদায়ের অনেকে নিজের ঘরে তালা মেরে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি। ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনকে জখম করা হয়েছে। প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে হিন্দু পরিবারগুলো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সুভাষ সরকার জানান, নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনেওয়াজ মৃধা ও ফুটবল মার্কা মেম্বার প্রার্থী মামুন শেখের কর্মী সমর্থকরা একাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লাটপাট করে তাণ্ডব চালায়। এ সময় বাড়িঘরে থাকা নারী-পুরুষদের এলোপাতাড়ি মারধর করে দেশছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন কৃষ্ণ পোদ্দার, সুদেব ঢালী, তাপস পোদ্দার, দীন বন্ধু, রিপন মল্লিক, গণেশ রায়, মহাদেব সরকার, সাধনা রানী, গোবিন্দ রায় ও খগেন মল্লিকসহ অনেকে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কাশিমপুর কারা ইনস্ট্রাক্টর খুনের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন
লৌহজং থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ সিকদার জানান, ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ অন্যান্য নেতাকর্মী যারা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাদের সবাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুত সভা ডেকে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, রবিবার সকালে জানতে পেরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এরং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করার বিষয়টি পক্রিয়াধীন রয়েছে।
/এইচকে/








