বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ মোকাবেলায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং মংলা বন্দরের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। একই সঙ্গে ১৬টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৯টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের। মেডিক্যাল টিম গঠন এবং সেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যেও সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোয়ানুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাগেরহাটসহ উপকূল অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দরে সবধরনের জাহাজে মালামাল ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মেহেদী মাসুদ জানান, রোয়ানুর সতর্কতার সংকেত জারির পর কোস্টগার্ডের ১২টি স্টেশনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের মাছ ধরা জেলেদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কোস্টগার্ডের আধুনিক জাহাজসহ উদ্ধার যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাঈদুল ইসলাম জানান, সতর্ক সংকেত জারির পর সব স্টেশনগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবধরনের সরকারি যানগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন উল-হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার সাদিয়া আফরোজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সেলিম ওসমানকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানিফের
/এআর/টিএন/







