যশোরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ মহাসমাবেশে পুলিশের ডিআইজি (খুলনা) এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, পাকিস্তানে এখন তালেবান, সামরিক, সো কল্ড রাজনীতি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-এই চারটি পক্ষের শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশের জঙ্গি সন্ত্রাসীরা ওইরকম শাসনব্যবস্থা কায়েমে তাদের নৈরাজ্য চালাচ্ছে। কিন্তু এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ’৭১ এর মতো আবারও ঐক্যবদ্ধ। তাই জঙ্গিদের সেই ঘৃণ্য উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না।

তিনি সোমবার দুপুরে যশোর টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে জেলা পুলিশ ও কমিউিনিটি পুলিশিং আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ সব প্রকার অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে চায়। যারা ইসলামের নামে নিরীহ মানুষ খুন করছে, তারা আসলে মানুষ নয়; মানুষ নামের কলঙ্ক। আমরা সেইসব মানুষ নামের কলঙ্কদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি, তাদের ঘৃণা করি।
মার্কিন মুল্লুকে একটি নাইট ক্লাবে একজন আততায়ীর গুলিতে ৫০ জন প্রাণ হারানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দেশের সহিংসতা রোধ করতে পারে না, তারাই আজ আমাদের শান্তির ছবক দিচ্ছে। জঙ্গিবাদের ধুয়ো তুলে তারা আমাদের দেশের সেন্ট মার্টিনসে ঘাঁটি করার পাঁয়তারা করছে।
বাঙালি কখনও কোনও ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে মাথা নত করেনি; এখনও করবে না- বলেন তিনি।
দেশের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ডিআইজি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রমাণ করেছেন, বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই আমরা পদ্মার ওপরে ব্রিজ করতে পারছি। তৈরি করতে পেরেছি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চার লেনের রাস্তা, ঢাকা শহরে ফ্লাইওভার। খুব শিগগির পাতাল রেল তৈরির কাজ শুরু হবে।
তিনি জঙ্গি সন্ত্রাসীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, আপনাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সকলের কুষ্টি-খবর আমাদের জানা। সহিংসতা করা হলে কী ধরনের ওষুধ দিতে হয়, তা দেখতে পাবেন।
তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গি সন্ত্রাসী নির্মূলে পাড়ায় পাড়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের প্রতিরোধে আহ্বান জানান। এসব সন্ত্রাসী জঙ্গি প্রতিরোধ করার অধিকার রাষ্ট্র আমাদের দিয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, এই লাঠি দিয়ে আমরা ইংরেজ তাড়িয়েছি, চোর-ডাকাত, চরমপন্থী-সন্ত্রাসী প্রতিহত করেছি। এবার জঙ্গি সন্ত্রাসীদেরও নির্মূল করা হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোরের পৌরমেয়র জহুরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আলহাজ আলী আকবর, র্যাব-এর পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, খুলনার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা, নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল করিম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
বক্তৃতা শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে বাঁশের লাঠি ও বাঁশি বিতরণ করা হয়।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন:
'টিসিবি চায় না, আমরা পণ্য তুলি'
আশানুরূপ কার্যক্রম ছিল না বরিশাল বিভাগেও
টিসিবি অকার্যকর, বাজারে কোনও প্রভাব নেই
ঢাকাতেও ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সামান্য বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা
রোজায় ১৮ জেলায় পৌঁছায়নি টিসিবি’র পণ্য
রংপুর অঞ্চলের ডিলারদের অভিযোগ: ব্যাপক চাহিদা তবুও বন্ধ করা হয়েছে পণ্য সরবরাহ
চট্টগ্রামের ৬ জেলার মানুষ পাননি টিসিবি’র কোনও পণ্য
খুলনা অঞ্চলে পণ্য তুলেছেন মাত্র ২৩ শতাংশ ডিলার, দেওয়া হয়নি তেল-খেজুর








