যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের আগুন লাগার ঘটনায় সেই ২৩ নম্বর শেড থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে শেডের আশেপাশে পোড়া গন্ধে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আশেপাশে বিভিন্ন কেমিক্যাল গলে পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। ফলে মালামাল লোড-আনলোডে সাময়িক অসুবিধা দেখা দিয়েছে।এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জলিলকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ৩ কার্য দিবসে মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।অপরদিকে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষও একটি কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন আরও ৪ সদস্য। তারা ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবেন। অন্যদিকে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ৩ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি কমিটি গঠন করেছে। ৩টি তদন্ত কমিটির মধ্যে স্থলবন্দর ও কাস্টমসের দুটি তদন্ত কমিটি সোমবার সকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন। অপরদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি এখনও তাদের কাজ শুরু করেনি। তারা মঙ্গলবার সকাল থেকে বেনাপোলে তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে বন্দরের ২৩ নম্বর শেডে আগুন নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। শনিবার অনেক রাত পর্যন্ত ওই শেডে আমদানিকৃত কয়েকটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করা হয়। সেখানে কেউ সিগারেট খেয়ে ফেলে দিয়েছে এবং সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে অনেকে মনে করছেন।
আবার ওই শেডের ইনচার্জ জানান, শেডের পাশে একটি পোস্ট লাইনে গত ১১ সেপ্টেম্বর আগুন লাগে। হ্যান্ডিলিং শ্রমিকদের সহযোগিতায় সে যাত্রা রক্ষা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য আবেদনপত্র দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। তারপরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এ কারণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে।
বন্দরের অব্যবস্থাপনা ও চুরির প্রমাণ লুকাতে অগ্নিকাণ্ডের মত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়ে থাকে এ বন্দরে। বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭ বার এ বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। যার কোনও ক্ষতিপূরণ আজও পায়নি আমদানিকারকরা।
এ ব্যাপারে বন্দর ব্যবহারকারী বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা ব্যবসায়ী মহলে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আমরা জরুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের প্রতিনিধিদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আমদানিকারক বেনগার্ড ট্রেডার্সের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম সবুজ জানান,তার মালিকের ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৮৯ মে.টন তুলা ছিল। যা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সরকার পক্ষ থেকে যদি ক্ষতিপূরণ না পান তাহলে তিনি দেউলিয়া হয়ে যাবেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। এ পর্যন্ত ওই শেডে ১১৫টি পণ্য চালানের কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই শেডে আর কী পণ্য আনলোড করা হয়েছে সেটা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সবকিছু হাতে পেলে তবেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আগে কোনও পোড়া পণ্য ওই শেড থেকে সরানো যাবে না।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৩ নম্বর শেডে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই শেডে বিভিন্ন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানিকৃত কাপড়, ডাইস, বিভিন্ন কেমিক্যাল, মেশিনারি পার্টস, মোটর পার্টস, ফাইবার, মশা তাড়ানোর স্প্রে নিউ হিট, তুলা অ্যাসোসিয়েডস গুডস এবং কাগজ রক্ষিত ছিল।
/এআর/







