সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাসের ছেলে সোহেল বিশ্বাস আবারও বিয়ে করেছেন। এটি তার চতুর্থ বিয়ে। এ অবস্থায় সারাহ ফার্গুসান তন্বী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেলের জামিন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী তন্বীর মা শামীমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘তন্বী হত্যার বিচার শুরু হলো না প্রশাসনের গাফিলতি ও আইনের দুর্বলতার কারণে। এ অবস্থায় প্রধান আসামি সোহেল জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও বিয়ে করেছে!’
শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তন্বীর মা শামীমা আক্তার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তন্বী হত্যার পর খুলনাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সঠিক তদন্ত করিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করেছে। কিন্তু এখনও তন্বীর ননদ ইতি বিশ্বাস গ্রেফতার হয়নি। তিনি এজন্য তার পরিবারের সন্ত্রাসী পরিচিতি ও প্রভাব এবং পুলিশের দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তন্বীর মা বলেন, ‘আইনের দুর্বলতার কারণে খুলনাসহ সারাদেশে নির্যাতনের শিকার নারীরা বিচার পাচ্ছে না। তন্বী হত্যার পরও সে ধারাবাহিকতাই বিরাজ করছে। তন্বী হত্যার আসামিরা আদালতের তদন্তে চিহ্নিত। অথচ একজন জামিন নিয়ে প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিয়ে করেছে। অপরজন এখনও গ্রেফতার হয়নি। তন্বী হত্যার বিচার হলে এ ধরনের অপরাধে উৎসাহিতরা দমন হতো। দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রাও কমে যেত।’
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে মানবতা বলে কিছুই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নুন্যতম মানবতা থাকলে তন্বী হত্যার বিচার কার্যক্রম এতদিনে শুরু হতো। আসামি জামিন নিয়ে বের হয়ে আবার বিয়ে করে ঘুরে বেড়াতে পারতো না। আইনের কঠোরতা না থাকার কারণেই এটা সহজ হচ্ছে। খুলনাবাসী তন্বী হত্যার বিচার চায়। কিন্তু কোনও অগ্রগতিই হচ্ছে না।’
এদিকে, পুত্রবধূ সারাহ ফার্গুসান তন্বীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছেন খুলনার জাপার সাবেক সাংসদ আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা মহানগরীর নুরনগর বাসভবন সংলগ্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া আয়োজন করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তন্বী আত্মহত্যা করেছিল। তার পরিবার থেকে আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য তন্বীকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ডাক্তাররা পরিষ্কার লিখেছে তন্বী আত্মহত্যা করেছে। তারা হত্যার কোনও প্রকার আলামত পায়নি।’
শুক্রবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস এসব কথা বলেন।
পুত্র সোহেল বিশ্বাসের আবারও বিয়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, পাঁচ মাস আগে সোহেলকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বর্তমান শ্বশুরবাড়ি মুজগুন্নিতে।
তিনি বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার কোনও আলামত না পাওয়ায় এবং বিশ্বাস পরিবারের সম্মান থাকার কারণেই আদালত সোহেলকে জামিন দেন। তার কন্যা ইতি বিশ্বাসের নামও জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের সতর্কতা ও মানবিকতার কারণে ইতি বিশ্বাস আটক হয়নি।’
/বিএল/
আরও পড়ুন:
সাবেক এমপি পুত্রবধূ তন্বী হত্যার বিচার ২ বছরেও শুরু হয়নি







